Contact us to get featured in Entrepreneurs Magazine TSM | Call: 01684722205

“”আত্মতৃপ্তি পাওয়ার গল্প””|অধরা প্রদীপ মৌ

মানুষের জীবনটা অনেক ছোট। বেশিরভাগ মেয়েদের জীবন অনেকটা এক রকমই।। কোন একটা ভাবে কেটে যায় জীবন। সংসারের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে জীবন কেটে যায়।। কিছু কিছু মেয়ে আছে যারা নিজেদেরকে ভালোবাসতে শেখে।। ছোট করে হলেও নিজেদের একটা পরিচয় চায়।।  পরিচয়ের এর জন্য পরিশ্রম করে।। সংসারের সব কাজ করে নিজের জন্য সময় বের করে।সত্যি বলছি যখন নিজের টাকাটা নিজের হাতে আসে সেটার অনুভূতি কাউকে বোঝানো যাবে না।

উই আমাদের জন্য অনেক বড় একটা প্লাটফর্ম।। উই তে জয়েন হয়েছি তিন মাস। অনেক কিছু শিখেছি উই থেকে।। আর সব থেকে বড় কথা এখান থেকে কিছু করার সাহস পেয়েছি।

কিছু একটা করার ইচ্ছা সব সময় এই ছিল। কিন্তু কি করব? কিভাবে করব? সেটাই বুঝতে পারছিলাম না।। সবকিছু থাকলেও নিজেকে খুব অসহায় লাগতো।।। অস্তিত্বহীন মনে হতো।

কেক বানাতে আমার খুব ভাল লাগত।। কিন্তু শুধু বাসার জন্য বানাতাম।।। হঠাৎ করে মনে হল আমি তো এটা নিয়ে কাজ করতে পারি। কিন্তু সেটাও সহজ ছিল না। এখনো আমার জন্য কেক নিয়ে কাজ করাটা সহজ হয়ে উঠেনি।বেকিং আইটেম কিনতে অনেক টাকা লাগে। আর এটা এমন একটা জগৎ, যত জিনিস কেনা যাবে কিন্তু কেনা শেষ হবে না।

আমি একটু একটু করে জিনিসগুলো কিনছি।। এমনকি এখনও কিনে যাচ্ছি। প্রথমে কয়েকজন পরিচিত দেরকে কেক দিয়েছে।। তারা যখন ভালো বলল,, তখন মনে হল উই তে পোস্ট দেই।। যেহেতু এক হাতে সবকিছু করতে হয় ঘরের কাজ ,উই তে আমি সময় এই দিতে পারি না। আমার কোন কাজেই আমি ঠিকঠাক সময় দিতে পারছি না।।।

খুব কষ্ট হয় তখন যখন সময় দিতে ইচ্ছে করে নিজের কাজকে কিন্তু দিতে পারিনা।

উই তে যেদিন আমি প্রথম অর্ডার পেয়েছিলাম আমি অনেক খুশি হয়েছিলাম।। কাজ শুরু করেছি ২ মাসের মত হবে।।। এরমধ্যে আমি রিপিট কাস্টমার পেয়েছি।। যতজনের সাথে পরিচিত হয়েছে আর আমার কেক নিয়েছে, তারা পরবর্তীতে আবার কেক অর্ডার করেছে এটাই আমার কাছে অনেক।।

আমার নিজের মধ্যে যে একটা হতাশা ছিল, যে আমি হয়তো কিছু করতে পারবোনা আমার সেই হতাশা দূর হয়েছে।

নিজের মধ্যে একটা আত্মতৃপ্তি এসেছে।।

তবে আমার এই কাজ পরিবারের সবার যে পছন্দ সেটা না। কিন্তু আমার হাজব্যান্ড আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।।ও এই সাহায্য না করলে আমি হয়তো এই আত্মতৃপ্তি টা পেতাম না।।

        যেহেতু কেক ,,,ডেলিভারি ম্যান দিয়ে কেক ডেলিভারি করালে একটা চিন্তা থেকে যায়,,, আমার হাজব্যান্ড তার অফিস করে আমি এখন পর্যন্ত যতগুলো কেক তৈরি করে দিয়েছি, বেশির ভাগ  কেক এই সে ডেলিভারি করেছে।

কাজ শুরু করার পর থেকে 15 টা কেক আমি ডেলিভেরি দিয়েছি। যেটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।।

হয়তো আস্তে আস্তে আমি আরো অর্ডার পাবো।।। সবাই যদি আমার পাশে থাকে।

     একটা মেয়ে যখন পড়াশোনা শিখে ,উদ্যোক্তা হতে চায় তার পথ এত সহজ হয় না,, পরিবারকে বোঝেনো। আমার মা আমার এই কাজ এখনো পছন্দ করো না।।

যাই হোক, আমার পরিশ্রম আমি করে যাব। কেন জানি এখন মনে হয় আমি এটা ছাড়বো না।। সবাই আমার পাশে থাকবেন। আমি ঢাকা থেকে কেক নিয়ে কাজ করছি।

আমার পেইজ: Baking for thinking.

এই ম্যাগাজিনের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।S.z prince ভাইয়াকে অনেক ধন্যবাদ।। ভাইয়া যখন আমাকে আমার কাজের সম্পর্কে কিছু লিখতে বলেছে আমি অনেকটা খুশি । আমার মত এরকম ছোট একটা মানুষের কথা উনি জানতে চেয়েছেন।

এখানে অনেকের সফলতার গল্প দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে।।। এটা খুব ভালো একটা কাজ।। এই সফলতার গল্প গুলো মানুষকে সাহস যোগাবে।

S.Z.PRINCE

facebookhttps://web.facebook.com/S.Z.PRINCE

WhatsApp no. 01684722205

Magazine page: https://web.facebook.com/TSMEntrepreneursMagazine