Contact us to get featured in Entrepreneurs Magazine TSM | Call: 01684722205

আমাদের দেশে চিরাচরিত একটি প্রথা আছে|নুসরাত ইয়াছমিন

আমাদের দেশে চিরাচরিত একটি প্রথা আছে।মেয়ে এবং ছেলের ক্ষেত্রে সেটা যদিও ভিন্ন তবে সবার ই ভোগা লাগে।এই যেমন ছেলে দের ক্ষেত্রে ‘কিরে কলেজ তো শেষ হলো,কোন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হবা?সাব্জেক্ট ভালো না হলে কিন্তু ফিউচার শেষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশন জটে ভোগা স্টুডেন্টদের জন্য লোকের কথা- কি বেপার??চুল তো পেকে গেলো! ক্যাম্পাসে রয়ে যাওয়ার প্ল্যান আছে নাকি?? নাকি বের হয়ে কিছু একটা করবা??

তারমধ্যে ২য় বা ৩য় ইয়ার এ পড়া মেয়েদের জন্য থাকে বিশেষ ডায়ালগ – কি ব্যাপার?? বিয়ে করবে না?৪য় ইয়ার এ গেলে তো বিদেশি ছাড়া শিক্ষিত জামাই পাবা না।আর যদি কোনো ভাবে মাস্টার্স শেষ হয় তবে চাকরি নিয়ে খোচানি শুরু।

আমাদের সুমাইয়া জাহান যাকে আমরা সুমি আপু বলে ডাকি তিনি কেকের বিজনেসের কথা প্রথম ভেবেছিলেন যখন তিনি অনার্স প্রায় শেষের পথে।উপরে যেসব কথা লিখলাম তা কিন্তু সুমি আপুকে কোনোভাবেই ইফেক্ট করেনি কারন প্রতিবন্ধকতা গুলো পরিবারের কারো কাছে শুনতে হয়নি।

অর্থনীতি বিভাগ থেকে অনার্স মাস্টার্স শেষ করে কেকের বিজনেস টাকে সিরিয়াসলি নিয়েছেন সুমি আপু।

আপুর সাথে আছি আমরা দুইজন। আমি নুসরাত ইয়াসমিন  এবং  সুমি আপুর বোন সারা বিনতে আব্দুল্লাহ। আমরা দুইজনেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ থেকে বি.বি.এ শেষ করেছি এবং বর্তমানে লকডাউনের কারণে এম.বি.এ লাস্ট সেমিস্টার  শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আছি।

আমাদের দুইজন কে পার্টনার হিসেবে নেয়ার কারণ হচ্ছে আমি রান্না বান্নার প্রতি অনেক আগ্রহী ছিলাম আর সারা সুমি আপুর শুরু থেকেই কাজে সাহায্য করতো।বড় বোন হলেও তার সাথে সম্পর্ক টা বন্ধুর মতো।

মূলত কেক নিয়ে আগ্রহের কারনে সুমি আপু বেকিং এর অনেক ক্লাস করেছেন এবং শিখেছেন পরে আমাদের  শিখিয়েছেন।

২০১৮ সালের ডিসেম্বর এর ৭ তারিখ আমি সুমি আপু আর সারা মিলে ফেসবুক পেজের জন্য নাম ঠিক করছিলাম।পেজ খোলার আগেই কিন্তু সুমি আপুর কেকের প্রশংসা পরিচিতদের সবাই করেছে।তো অনেক ভেবে নাম ঠিক করলাম SNS’s delight যা আমাদের সবার নামের প্রথম অহ্মর দিয়ে করা।কথা ছিল ফ্রোজেন আইটেম ও কেক নিয়ে কাজ করার।

আমি থাকি চট্টগ্রাম এর হাটহাজারী তে আর সুমি আপু আর সারা থাকে ২নং গেটের কাছাকাছি।তো কিভাবে আমরা বিজনেসটা চালাতে পারি সেটার প্ল্যান করে দিয়েছেন সুমি আপু। আমি যেহেতু কেক বানানোতে শুরুর দিকে অতোটা ভালো ছিলাম না তাই ফ্রোজেন আইটেম গুলোর দায়িত্ব পরে আমার উপরে। সেই থেকে শুরু।

প্রথম প্রথম মূলধন জোগাড় করাটা কঠিন হয়ে পরে কারণ আমরা সবাই পড়াশোনা করি।পারিবারিক আর্থিক কোনো সাহায্য নেইনি নিজেদের টিউশন এর টাকায় শুরু করি সবাই।তবে পরিবারের সবাই মানসিক অনেক সহায়তা করেছে যার জন্য  আল্লাহর কাছে অনেক অনেক শুকরিয়া।

এবার আশি আমাদের প্রোডাক্টস এর কোয়ালিটি নিয়ে।আমাদের শুরুটা মুলত ঘরের মানুষ গুলোকে সাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়ানোর জন্য ভেবেই হয়েছিল। দোকানের কেক গুলোর অধিকাংশ স্বাদ কখনোই ভালো লাগতো না।তাই ভালো উপাদানে কেক বানানোর প্রসেস টা ইন্টারনেট থেকে অনেক খুজে বিভিন্ন জায়গায় শিখে পড়ে তারপর বের করি।আত্মীয় স্বজন, পাড়াপ্রতিবেশি আর বন্ধুবান্ধব  সবাই স্বাদ এবং মানের তফাৎটা বুঝতে পারে বলেই  এখনো পর্যন্ত সবার কাছে প্রথম চয়েস হিসেবে আমাদের কেক ও ফ্রোজেন আইটেম গুলো প্রাধান্য পায়।বর্তমানে মিষ্টি ও বিভিন্ন ডেসার্ট আইটেম নিয়েও কাজ করছি।

২০১৯ সালে সুমি আপুর বিয়ের পর তিনি এখন  অন্য জায়গায় আছেন।ফলে আমাদের প্রোডাক্ট মানুষের কাছে পৌছানোর পরিধি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।তবে যখনই বড় কোনো অর্ডার কমপ্লিট করতে হয় তখন সকলের একত্রিত প্রচেষ্টা কাজে লাগাই আমরা। তাই হুটহাট করেই বিজনেসটা শুরু করিনি। প্রচুর প্ল্যানিং করে সবকিছু সাজিয়েছি।

আমাদের লহ্ম্য সবসময় থাকে ভালোমানের খাবার যতটা পারা যায় কম দামে দেয়া তাই কাঁচামাল সংগ্রহ করতে অনেক দোকান ঘুরতে হয়।তার মানে এই না ভালো মানের পন্য না কিনে খারাপ টা কিনি। অনলাইন বিভিন্ন পেইজগুলোতেই আপনি বেকিং আইটেমগুলোর ভিন্ন ভিন্ন দাম খুঁজে পাবেন। বক্সটা বেশি দামে না কিনে আমরা নিজেরাই তৈরি করি যাতে প্রোডাক্টস এর দাম বেড়ে না যায়।

আমাদের পেইজ সম্পর্কে খুব কম মানুষ জানে যারা জানে তারা আমাদের পরিচিত আর তারা অন্যদের আমাদের সম্পর্কে জানায়।ব্যবসা শুরু করেছি প্রায় ১বছর ৮ মাস চলছে। ফেসবুক বুস্ট করে কখনো লাইক বাড়ানোর কথা ভাবিনি কারণ আমরা কাজে বিশ্বাসী  কথায় নয়।বেশ কিছুদিন আগে Women and E-commerce গ্রুপ সম্পর্কে জানতে পেরে এই প্রথম সবাইকে নিজেদের সম্পর্কে জানানোর জন্য অনুপ্রেরণা পাই।রাজীব আহমেদ  স্যার সম্পর্কে যেখানে না বললেই নয়।তার অনুপ্রেরণা মানুষকে কতটুকু এগিয়ে নিয়ে যায় তার হাজার হাজার উদাহরণ উইতে আছে।আমরা পোস্ট করার পরও অনেক মানুষের ভালোবাসা ও শুভকামনা পেয়েছি যার কারনে আমাদের ব্যবসা সম্পর্কে  অনেক মানুষ জানছে যেটা  আমাদের অনেক বড় পাওনা।

তার মধ্যে একটা বড় পাওনা এই আর্টিকেল টা লিখতে প্রিন্স ভাইয়ার অনুরোধ। তিনি আমাকে ব্যবসার বর্তমান পরিস্থিতি জানাতে বলেছিলেন।

বর্তমানে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি এবং সামনে আরও এগিয়ে যাবো ইন শাহ আল্লাহ।

সবার দোয়া  এবং ভালোবাসা পাওয়ায় এতদূর এসেছি সেটা গর্বের বিষয় আমাদের কাছে।

আপনিও আপনার গল্প শেয়ার করতে চাইলে আমাকে মেসেজ করতে পারেন।

S.Z.PRINCE

facebookhttps://web.facebook.com/S.Z.PRINCE

Contact no. 01684722205