Contact us to get featured in Entrepreneurs Magazine TSM | Call: 01684722205

আমার পেজের নাম খাবারের বাগান।Munne Hossain

আমার নাম মুন্নী হোসেন

২৪ সাইরা মঞ্জিল, ওয়াসা হাই লেভেল রোড

আমি অতি সাধারণ একজন নারী।আমি মধ্যবিত্ত ফ‍্যামিলির মেয়ে।আমি আমার বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে ৩ মাস বয়সে আমার বাবা মারা যান ।আমি আমার বাবা দেখিনি। আর দ্বিতীয় বার আমার মা বিয়েও করেননি শুধুমাত্র আমার জন্যে। এমন জননী পেয়েছি কপাল গুনে । আমার মা মানুষ হিসেবে খুবই সহজ সরল এবং সাধারণ মানুষ। কিন্তু সে আমাকে অসাধারণ ভালোবাসা দিয়ে বড় করেছে কোন কিছুর ত্রুটি ছিল না আমার। সংসারে অনেক আদরের ছিলাম আমি। এভাবে বেড়ে ওঠা কিশোর থেকে যুবতী, যুবতীর থেকে গৃহিণী, গৃহিণী থেকে আজ মা। জীবনসঙ্গী হিসেবে যাকে পেলাম সে মানুষ হিসেবে অতুলনীয় যার কোন তুলনা নেই ।সবকিছুতেই আমাকে অনেক সহযোগিতা করে এবং উৎসাহ দেয়। সংসারে যখন এসেছি ১ কাপ চা বানানো ছাড়া কিছুই পারতাম না। স্বামীর কাছে তারপর মায়ের কাছ থেকে অল্প অল্প করে সব শিখেছি। এক সময় এই রান্না করাটা আমার শখে পরিণত হল। এরপর যখন যা খেতে ইচ্ছা করত তখনই তা বানিয়ে খেতাম। ধীরে ধীরে দুই সন্তানের মা হলাম। তারপর বাচ্চাদের চাহিদা মেটানোর জন্য শুরু করলাম নানা রকম দেশী বিদেশী খাবার ।যেটা আমার স্বামী এবং বাচ্চারা খেতে খুবই পছন্দ করে। এভাবেই চলতে থাকল আমার দিন কিন্তু সব সময় মনে মনে ইচ্ছা ছিল কিছু একটা করার । সাহস এর কারনে কখনও কিছু করে উঠতে পারিনি। যখন বাচ্চারা একটু বড় হল তখন আমার ছেলে মেয়ে  দুজন‌ই বল্ল মা তুমি যেটা খুব ভালো বুঝ , ভালো পারো সেটা নিয়েই তুমি শুরু করো।

তারপর আমার স্বামী ও বলল কিছু করার ইচ্ছা থাকলে নেমে পড়ো আমরাও আছি তোমার সাথে। যেই বলা সেই কাজ তারপর চিন্তা করতে লাগলাম, বিভিন্নজন থেকে পরামর্শ নিলাম সবারই এক কথা যে তুমি পারবে। তোমার ভিতরে সে প্রতিভা আছে। আমার বাসায় যেই আসত আমার হাতের রান্না খেয়ে বলতো আপনি একটি খাবারের পেজ খুলে ফেলুন বা হোটেল বিজনেস শুরু করুন খুবই ভালো সাড়া পাবেন। এরপর আমি ভাবলাম অনলাইন বিজনেস করবো। তারপর তো সাহস করে খুলে ফেল্লাম । যেদিন খুললাম আমার এই খাবারের পেজটি সেই দিনটি ছিল আগস্ট মাসের 19 তারিখ। এরপর ১০, ১২ দিন কেটে গেল কোন সাড়াই পেলাম না। কিন্তু এ কয়দিন পর আমি একটি  খাবারের  গ্রুপথেকে ইলিশ পোলাও এর অর্ডার পেলাম। উনি খেয়ে খুবই প্রশংসা করলেন। অনেক সাহস দিলেন এবং বললেন আমি খুব ভালো করতে পারব এবং ধৈর্য ধরতে বলল। এরপর একজন ২০টি পিয়াজুর অর্ডার দিলেন তিনিও খেয়ে খুবই  সুনাম করলো। উনার কাছে আমার বানানো পেঁয়াজগুলো এত ভালো লেগেছিল যে উনি আমার পরপর পাঁচবার রিপিট কাস্টমার হয়ে গেলেন। এক মাসের মধ্যেই উনি ৫বার নিলেন। উনি যে খাবারের গ্রুপ থেকে আমাকে পেয়েছিলেন সেই খাবারের গ্রুপে অনেক সুনাম করলেন বারবার। এরপর  ধীরে ধীরে  দুইজন  তিনজন , ৪জন করে ধীরে ধীরে বাড়তে লাগল। আমি এখনো সফল  হয়েছি বলতে পারছিনা  কিন্তু যেদিন  আমি আমার  লক্ষ্য অনুযায়ী  সেই জায়গায়  পৌঁছে যেতে পারব  এবং  মানুষের  ভালোবাসা অর্জন করতে পারব  সেদিন‌ই হবে আমার সফলতা। আজ পর্যন্ত যতগুলো কাজ করলাম সবগুলোতেই  ভালোবাসা পেয়েছি এবং সুনাম অর্জন করতে পেরেছি। আমি নতুন হিসেবে যা করতে পেরেছি ওটাতে‌ই   আমি সন্তুষ্ট আলহামদুলিল্লাহ। এভাবে গুটি গুটি পায়ে যেন আমি আমার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি সেই আশায় রাখি। আল্লাহর যদি দয়া থাকে এবং আমার পরিবারের সহযোগিতা এভাবে বিদ্যমান থাকলে আমি ইনশাল্লাহ একসময় পারব। আমি তো মানুষ, আমার তো কিছু ভুল হতেই পারে সব সময় কাজ করার পর মনে হয় আমি আবার কিছু না ভুল করে ফেলি। যখন কোন খাবারের অর্ডার আসে তখন আমি আমার বেস্ট দিয়ে ট্রাই করি  সে খাবারটা  ভালোভাবে তৈরি করার । এমনকি মসলা থেকে শুরু করে  সবকিছু  আমি নিজের হাতে তৈরি করি ।

” আমি নারী আমিই উদ্যোক্তা

          আমি সব পারি

দুচোখে স্বপ্ন দেখি

       মনের ভালোবাসা ওআনন্দে

সকলের ভালোবাসা নিয়ে।”

আমার পেজের নাম খাবারের বাগান। আমি যেন আমার খাবারের পেজটাকে আমার লক্ষের জায়গায় নিয়ে যেতে পারি এটাই আমার ভবিষ্যত কামনা। আমার এই পেজটির মূল লক্ষ্যই হলো মানুষের নিকট স্বাস্থ্যসম্মত এবং সুস্বাদু ভালো মানের হোমমেড খাবার পৌঁছে দেওয়া।

……………………………………………………………………………………………………………………………

S.Z.PRINCE

facebookhttps://web.facebook.com/S.Z.PRINCE

WhatsApp no. 01684722205

Magazine page: https://web.facebook.com/TSMEntrepreneursMagazine

আপনিও আপনার গল্প শেয়ার করতে চাইলে আমাকে মেসেজ করতে পারেন।