Contact us to get featured in Entrepreneurs Magazine TSM | Call: 01684722205

উদ্যোক্তা কে কাকে বলে কিছুই জানতাম না।Tazrin Zahan

উদ্যোক্তা কে কাকে বলে কিছুই জানতাম না।

শুধু নিজের প্রতি একটা বিশ্বাস ছিল, আমি জানি আমি আমার মতো করে পারব.।বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের  এর প্রেরণা আমাকে উৎসাহ যুগিয়েছে।আমি তাজরিন জাহান লোপা, টঙ্গীতে আমার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্যে আমি সবার ছোট। আইন বিষয় এর উপর অনার্স মাস্টার্স কমপ্লিট করে বর্তমানে গাজীপুর সেন্ট্রাল ল কলেজের পার্ট টাইম লেকচারার হিসেবে যুক্ত আছি। আর পাশাপাশি উত্তরায়   শেল্টার গ্লোবাল স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে  আছি।

বর্তমানে অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছি লকডাউন এরপর থেকে।এর আগেও অনেকগুলো স্কুল এর সাথে যুক্ত ছিলাম।আমার উদ্যোক্তা জীবনের শুরুটা এমন যে,কিছু একটা করার চিন্তাভাবনা ছিল কিন্তু ঠিক ভাবে বুঝে উঠতে পারছিলাম না। সাহস পাচ্ছিলাম না ।কিভাবে কি করব কারণ আমার কোন অভিজ্ঞতা ছিলনা।হঠাৎ এই ধরনের কিছু করার সুযোগ পেলাম। চার-পাঁচ মাস এটা নিয়ে ভাবলাম। বোনকে বললাম ,উনাকে অফারটা নিতে বোন , আমার বোন যেহেতু আগে থেকেই ব্যবসায় জড়িত।আমার পক্ষে সম্ভব সেটা আমার ধারনার বাহিরে ছিল।হঠাৎ উই গ্রুপে সন্ধান পেলাম। পোস্ট পড়লাম। সাহস বাড়লো এবং এটাই হয়ে গেল আমার টার্নিং পয়েন্ট।

আমি আমার মেজ বোন কে জানালাম। অনেক উৎসাহ এবং সাহস দিলেন এবং পাশে রইলেন তিনি।তখনো বাসার কাউকে তেমন কিছু জানায়নি। নিজের মতো করে শুরু করলাম। প্রথমে ওই গ্রুপে পরিচিতি বাড়ালাম। দেখলাম ওখানে প্রায় আমার সব বন্ধুবান্ধব রয়েছে। স্কুল থেকে শুরু করে একদম ইউনিভার্সিটি পর্যন্ত সবাই রয়েছে। বলছি আমার অনেক  কলিগ ও আছে।এদিকে শাড়ি নিয়ে কাজ শুরু করলাম।শারির একটা বিষয় খুব কঠিন সেটা হচ্ছে শাড়ি ভাঁজ করা। চেষ্টা করতাম শাড়ি ভাঁজ ঠিকমতো করতে। এক ঘণ্টা চেষ্টা করে ভেঙে পড়লাম।

আম্মু এবং আমার বোন হাল ছেড়ে দিল,, চুপ করে বসে থাকলাম।আসলেই কি সম্ভব না? যে মেয়ে একটা শাড়ি ভাঁজ করতে পারে না। সে কিভাবে শাড়ি বিক্রি করবে???আবার শুরু করলাম। প্রায় 1 ঘন্টা লাগলো কিন্তু আমি শাড়ি ভাঁজ করা শিখে গেলাম।সময়টা যেহেতু লকডাউন বাইরে বের হতে পারি না, যা কিছু  ঘর থেকে করতে হবে আর 10টা পণ্যের চাইতে শাড়ির ক্ষেত্রে একটি পরিশ্রম বাড়তি।উই এর জন্য সবচেয়ে বড় মাধ্যম। অন্তত এর মাধ্যমে আশেপাশে মানুষ তো জানতে পারবে আমার কাছে শাড়ি আছে।

   এরপর শুরু হলো দ্বিতীয় ধাপ,শাড়ির ছবি তোলা। সুন্দর ভাবে ছবি তুলতে হবে।এটা হচ্ছে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয়। আমরা যারা শাড়ি নিয়ে কাজ করি সবাই জানে শাড়ির ছবি তুলতে কতটা পরিশ্রম হয়।শাড়ির ছবি তোলা। সুন্দর ভাবে ছবি তুলতে হবে।এটা হচ্ছে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয়। আমরা যারা শাড়ি নিয়ে কাজ করি সবাই জানে শাড়ির ছবি তুলতে কতটা পরিশ্রম হয়।অনেকে বলছিল ,তখন আজকাল মেয়েরা শাড়ি পড়ে না তোমার শাড়ি বিক্রি হবে না তেমন একটা দেখ।আমি যেমন উৎসাহ পেয়েছিযেমনি পেয়েছি নিরুৎসাহ। প্রত্যেকটা দিন আমাকে এটার জন্য লড়াই করে যেতে হয়েছে। একটা বড় মানুষের যুদ্ধ। উপদেশের অভাব থাকে না। মানুষ না যেন উপদেশ দেয়।যখন দেখছি একটা মেয়ে নতুন কিছু করা শুরু করে তখন হয়তোবা অনেকেই উপদেশ এর ডিব্বা খুলে বসে উপদেশ দেয়া শুরু করে যদিও সেই বিষয়ে তাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই।

     আমি সবসময় চেষ্টা করেছি   অভিজ্ঞ মানুষের উপদেশ গুলো মাথায় রেখে নিজের বিবেচনা কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে। সবাই সেটা হয়তোবা বোঝেনা।নিজেরটা ভালো মতন নিজেকে গুছিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।অবশ্যই আমার পরিবার এবং পরিবারের বাহিরে,কাছের বন্ধু বান্ধব অনেক আস্থা রেখেছে।সব সময় উৎসাহ দিয়েছেন, হ্যাঁ আমার পক্ষে সম্ভব। সবসময় পাশে থেকে সাপোর্ট করেছে। যেকোনো পরামর্শ নির্দেশনা দিয়ে আমাকে ভুল গুলো শুধরে সঠিক সিদ্ধান্ত গুলো নিতে সহযোগিতা করেছেন।

অনেক সময় ভেঙে পড়েছি, হতাশ হয়েছি, মানসিক চাপে হয়তোবা ভাবছে আমার দ্বারা হবে না কিন্তু সেই সময় এই মানুষগুলোই বলেছেন হ্যা আমার পক্ষ সম্ভব।প্রথম মাসেই 65 টা শাড়ি সেল করেছি! এটা ছিল আমার জীবনের  বড় অর্জন গুলোর একটি ‌মানুষের বিশ্বাস আস্থার সাথে, আমি পুঁজি করেছি আমার সততা এবং ভালো ব্যবহার কে। নিজের প্রতি বিশ্বাস আরো মজবুত করেছে এই পাশে থাকা মানুষগুলো।এভাবেই চলতে লাগল আমার পরিচিতি।

    এদিকে শাড়ির ভাঁজ করে বিভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করলাম ছবি তুলে। বোন ভাবি সবাই হেল্প করলো, এমনকি আমার বোনের মেয়ে ছোট্ট অপ্সরা আমাকে শাড়ি ভাঁজ করতে শাড়ি তুলতেন আমাকে খুব হেল্প করত।আশেপাশের মানুষজন বাসায় শাড়ি দেখতে  এসে অনেকেই শাড়ি নিয়ে গিয়েছে।উইতে যেদিন ঘোষণা দিলাম আমি কবে থেকে কাজ শুরু করছি এবং ছবি দিলাম এবং ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আমার তিনটা  অর্ডার আসলো রংপুর থেকে। আমার এক বান্ধবী মাধ্যমে। এভাবে চলতে থাকে আমার উদ্যোক্তা জীবন। ওই আমার ফার্স্ট কাস্টমার এবং এখনো সে আমার কাস্টমার এবং অনেক ভালো বন্ধু।

ঠিক এক সপ্তাহ পর আমরা ভারত থেকে শাড়ি পছন্দ করে অর্ডার দিতে চাই, যেহেতু আমি নতুন তাই তাড়াতাড়ি এত বড় হাতছানিতে যেতে চাইনি।ইনশাআল্লাহ সামনে আরও আসবে। এটা ক্যানসেল করে দিই।তার 15 দিন পর আবার কয়েকটা ছবি পছন্দ করে আবার নক করে শাড়িগুলো মার পছন্দ হয়েছে।তারা আমার শাড়ি দেখে বাড়ির প্রত্যেক মহিলা প্রচন্ড রকম আগ্রহী। তাদের সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক হয়ে গেল। বয়স্ক মহিলা আমাকে ভিডিও কলে ফোন করে অনেক আশীর্বাদ করলেন।আয়ানস এর যাত্রাপথে এটা অনেক বড় আশীর্বাদ।আয়ানস  নিয়ে অনেক পরিকল্পনা আছে এগোচ্ছি। ধাপে ধাপে, তাড়াহুড়ার কিছু নেই।আপাতত শাড়ি রয়েছে।ট্রেডিশনাল শাড়িগুলো পাশাপাশি নিজস্ব ডিজাইনের শাড়ি নিয়ে সামনে খুব শীঘ্রই উপস্থিত হবো আমরা।আয়ানস এর নিজস্ব  ডিজাইনারের গয়না থেকে শুরু করে শাড়ি, ওয়ান পিস কুর্তা, ফতুয়া পাঞ্জাবি সব আসবে ধীরে ধীরে।

আমি সব সময় আমার বন্ধু মহলে বান্ধবীদেরকে উৎসাহ দেই, যেমন আমাকে উৎসাহ দেয়।আমার কলেজের বান্ধবী মাহমুদা লোগো বানিয়ে আমাকে দেয়। যেমনটা আমি চেয়েছিলাম।আসলে আমি আমার চিন্তাভাবনাগুলোকে বাস্তবে রূপান্তর এর জন্য যে মন মানসিকতার মানুষের প্রয়োজন সে ধরনের মানুষ আমি আমার আশেপাশে পেয়েছি এবং খুব সহজে আমার মনের চাওয়াটাকে বুঝে সেটা বাস্তবে রূপ দিতে আরে খুব সহজেই।

কিছু জিনিস মাথায় অবশ্যই এসেছে এ এগুলো নিয়ে  লিখবো:

অনেক সময় আমাদের  হতাশ লাগে। ভেঙে পরি। পারিপার্শ্বিক অবস্থায় ভেঙে পরি। হয়তো ভাবে আমার দ্বারাহবে না বা তাইতো বা আশেপাশের মানুষজন ও আপনাকে নিয়ে কথা বলবে। গুঞ্জন উঠবে। কিন্তু মাথায় একটা জিনিস রাখবেন,

এদের মধ্যে অনেকেই আপনার ভালো চাইবে। সবাই যে আপনার খারাপ চায় তা কিন্তু না। আপনি কেমন সেটা আপনার আচরণ এবং আপনার যোগ্যতা দিয়ে আপনি বুঝিয়ে দেবেন।

আমাকে আমার গুরু বলেছিল, ব্যবসার মধ্যে সবচেয়ে বড় পুঁজি হল ভালো সম্পর্ক। সম্পর্ক নষ্ট করতে নেই এবং আমরা এই ভুলটাই করে বসি।উনি আমাকে প্রচুর কাউন্সিলিং দিয়েছে। অনেক কিছু শিখিয়েছে। যখনই নতুন কিছু করতে গিয়েছি অবশ্যই তার পরামর্শ এবং দেখানো পথে এগোনোর চেষ্টা করেছি।যদি কখনো দেখেছে যে কোন সিদ্ধান্ত ভুল হচ্ছে সাথে সাথে শুধরে দিয়েছে। অনেক ভাগ্য করে আসা মানুষ এরকম নির্দেশক পায়।আমি অবশ্যই ভাগ্যবতী যে আমি এত সুন্দর একটা পরিবার ,

এত সুন্দর ভালো মনের বন্ধু মহল এবং অফুরন্ত ভালোবাসা পেয়েছি।এমনকি দেশের বাহির থেকেও প্রচুর দোয়া এবং ভালোবাসা পেয়েছি।আমার চলার পথ শুরু হয়েছে, স্বপ্নতো গণ্ডির বাইরে একটাই স্বপ্ন দেশের বাইরে দুটো দেশে আয়ানস এর শাখা থাকবে।তবে কখনো স্বার্থপরতা ভাল ফল এনে দেয় না।অন্যকে  সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া উচিত। এটা আমি বিশ্বাস করি এবং এক্ষেত্রে আমার কোনো কার্পণ্য নেই।

অন্যকে সুযোগ সৃষ্টি করে দিলে নিজের কোনো ক্ষতি হয় না বরং বড় মন মানসিকতার  পরিচয়পাওয়া যায়।নিজের স্বপ্নের সাথে সততা এবং পরিপূর্ণ শুদ্ধ ভালবাসার প্রয়োজন। আজ করলেন কাল ভেঙে ফেললেন সেটা তো আপনার স্বপ্নের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা হলো তাই না?

শুধু স্থিরতার প্রয়োজন সাথে অনেক ধৈর্য। আর আপনাদের সবার ভালোবাসা এবং দোয়া। ভাল থাকবেন সবাই।

S.Z.PRINCE

facebookhttps://web.facebook.com/S.Z.PRINCE

Contact no. 01684722205