Contact us to get featured in Entrepreneurs Magazine TSM | Call: 01684722205

করোনায় সফল উদ্যোক্তা হওয়ার সপ্নযাত্রা|Shyla Imtiaz|Khaddo Roshik|

স্বপ্নযাত্রা সেটা ২০১২ সাল। খুলনা মহানগরীর ইকবালনগর এলাকায় মা বাবার সাথে বসবাস করছি পিতৃপুরুষের ভিটাবাড়ীতে। বাবা প্রবাসীজীবন শেষ করে অবসরজীবন কাটাচ্ছেন নিতান্ত দারিদ্র্যের মধ্যে। ভাই নেই, ছোট একটি বোন। মা চিরকালের বাঙালী গৃহিণী। রোজগারের একটি মানুষ নেই পরিবারে। আমিও ডিগ্রীর শেষধাপে পৌঁছে গিয়ে হতাশ হয়ে লেখাপড়া বাদ দিতে বাধ্য হয়েছি আর্থিক টানাপোড়েনে । নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের নিদারুন অবস্থা বলতে যা বোঝায় , সেটাই কল্পনা করে নিতে পারেন। ভাবলাম এ অবস্থায় সংসারের হাল ধরতে হবে আমায়, কিন্তু কিভাবে ! অবিবাহিত তরুনীর জন্য সমাজের ভ্রূকুটি উপেক্ষা করে যা করা যায়, আজকের যুগে তা হোল অনলাইন বিজনেস। অনেক ভেবে মুল্ধনবিহীন বিজনেস তখন চলছে অনলাইনে পোশাকের বিজনেস। একটা পেজ খুললাম Be pure, Be beautiful. বেশ সাড়া পেলাম। অনলাইন বিজনেস সম্পর্কে অল্প বিস্তর অভিজ্ঞতা হোল। এলো ২০১৭ সাল। বিয়ে হয়ে চলে এলাম ঢাকার মিরপুরে শ্বশুরবাড়ি। স্বামী বেসরকারী চাকরীতে আছেন, প্রবীন শ্বশুর একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারী চাকুরিজীবি। শাশুরী প্রয়াত হয়েছেন প্রায় আট বছর আগে। আমাকে হাল ধরতে হোল শ্বশুরবাড়ির স্বচ্ছল সংসারে।কিন্তু মন পড়ে থাকে খুলনায় মা বাবার অভাবের সংসারে। কিভাবে চলছে তাদের দিন? এদিকে শ্বশুর তাগাদা দেন কিছু কাজ করতে, স্বামীও। সবার সহযোগিতায় টুকটুক করে চালিয়ে নিচ্ছিলাম আমার ক্ষুদ্র উদ্যোগ তৈরি পোশাকের অনলাইন বিজনেস। বলা ভালো, আমার কিন্তু শৈশব থেকেই ব্যবসার ঝোঁক, দশটা –পাঁচটা অফিসের একঘেয়ে কাজ আমার পছন্দ নয়। বলতে পারেন, চ্যালেঞ্জ নিতে আমি ভালবাসি শিশুকাল থেকে।তৈরি পোশাকের বিজনেস আমার কাছে খুব স্লো মনে হচ্ছিল, অথচ আমি চাই থ্রিল। এরমধ্যে চলে এলো করোনা কাল কভিড ১৯। তৈরি পোশাকের আমদানী এবং দেশবিদেশে সময়মত ডেলিভারী দেওয়ার ক্ষেত্রে বিরাট সমস্যার সম্মুখীন হলাম। বিশ্বব্যাপী বানিজ্য বিপর্যয় ! আর আমি তো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র উদ্যোক্তা! এমনই সময়, যখন প্রচণ্ড হতাশায় ভুগছি , অনলাইন ঘাটতে ঘাটতে খোঁজ পেলাম Woman & e-commerce forum (WE). এটির সদস্যও হলাম। সেটির একটি অনলাইন আলোচনায় গভীরভাবে উদ্দিপ্ত হলাম আমি। দেখলাম সংস্থার সভাপতি জনাব রাজীব আহমেদ স্যর প্রণোদনামূলক আলোচনার একজায়গায় বললেন ঘরে তৈরি খাবার এই করোনাকালীন সময়ে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বললেন “ এইসময় আমি তো বিদেশী খাবার খাবনা, ঘরে তৈরি মজার খাবার খাব”। এটা আমার কাছে মনে হোল ‘হটাত আলোর ঝলকানির’ মতো। আমি তো শৈশব থেকেই মজার রান্না করতে খুব পছন্দ করি। অতএব দেরী না করে WE এর মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করলাম এবং ‘খাদ্য রসিক’ নামে একটা পেজ খুললাম। আমার স্বামী এবং স্বসুরের অকুণ্ঠ সমর্থন পেলাম। মাত্র দু হাজার টাকা দিয়ে রান্নার মালমসলা কিনে শুরু করলাম মজাদার রান্না, এরপর পোস্ট দিলাম অনলাইনে।

প্রথম দিনে পেলাম দুটি অর্ডার। আমার স্বামী ডেলিভারি করার দায়িত্ব নিলেন নিজের মোটর বাইকে। সেই আমার স্বপ্নযাত্রার শুরু। সেটা জুন মাসের ১৬, ২০২০ । আজ জুলাই ২৮, ২০২০ অর্থাৎ শুরুর একমাস বারোদিনের মাথায় আমার টোটাল সেল ১,২০,০০০ টাকা,আলহামদুলিল্লাহ্‌। আর ডেলিভারি দিয়েছি ১৬০ জন সম্মানীত পাতা-২ গ্রাহকের দরজায়। তাঁরা আমার রান্নার ভুয়সী প্রশংসা করে রিভিউ দিয়েছেন WE তে KHADDO ROSHIK (খাদ্যরসিক) এর পাতায়। আমি সত্যিই ধন্য, আমি কৃতজ্ঞ। আমার আনন্দ যে প্রতিদিন আমি মহাউতসাহের সাথে মজার মজার রান্না করে মনের শখ মেটাই, আমার স্বামী প্রতিদিন উতসাহের সঙ্গে বাজার করে আনেন, আমার প্রবীন শ্বশুর নিজে দাঁড়িয়ে থেকে রান্নার সময় থেকে ডেলিভারী পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতা ও বিশুদ্ধতার সঠিক মান বজায় রাখতে নিরলস পরিশ্রম করেন। এলাকার বেশ কয়েকজন তরুন বাইকার প্রচণ্ড উদ্যমের সাথে স্বাস্থ্যরক্ষার সকল বিধি মেনে ঢাকা শহরের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত—দিনে রাতে সর্বদাই আন্তরিকতার সাথে গ্রাহকের দ্বারে পৌঁছে দেন আমাদের খাদ্যসামগ্রী। পাশাপাশি we এর অন্যান্য সদস্যের তৈরি পন্য আমরা নিজেরা ব্যবহার করছি গভীর আনন্দে আর আন্তরিকতায়, যেন আমরা এক যৌথ পরিবার, বাঁধা আছি প্রানের টানে, পেটের টানে , ভালবাসায় আর সসম্মানে। আমি WE পরিবারের কাছে কৃতজ্ঞ। আমার নিজের সংসারে উপার্জন হচ্ছে,নিজের বাবা মাকেও দেখছি। মোটকথা, করোনার এই বিপর্যস্ত সময়ে কি এক মহাব্যস্ততায় , উদ্দীপনায় আর পুণ্যকর্মে আমাদের দিন কেটে যাচ্ছে কাজের আনন্দে আর ঘরে বসে উপার্জন করে, সে আর কি বলবো ! Shyla Imtiaz Khan Chowdhury Owner of- “ Khaddo Roshik”

https://web.facebook.com/shylashafiq.imtiaz/

https://web.facebook.com/khaddoroshik20/
Shyla Imtiaz Khan Chowdhury