Contact us to get featured in Entrepreneurs Magazine TSM | Call: 01684722205

ছোটবেলা থেকে মানুষের স্বপ্ন থাকে বড় হয়ে এটা হবো-সেটা হবো।Meherun Nahar Meghla

ছোটবেলা থেকে মানুষের স্বপ্ন থাকে বড় হয়ে এটা হবো-সেটা হবো। আমিই ছিলাম অদ্ভুত! আমি সবসময় চাইতাম, সংসারী হবো। পুতুল খেলতে খেলতে মনে হয় এটা ঢুকে গিয়েছিলো মাথায়। 😚

সুন্দর একটা ঘর, বন্ধুর মতো বর, ফুটফুটে দুটো বাচ্চা, হাসি, আনন্দ, গান, ভালবাসা, বেরে ওঠা আর বেঁচে থাকা।

হলোও তাই। আল্লাহর অশেষ রহমতে ছোট্ট সুখের ভালোবাসার সংসার আমার। কিন্তু মানুষের মন বলে কথা। পারফেক্ট সবকিছুতেই অস্থির হয়ে ওঠে সে।

বাচ্চারা একটু বড় হতেই সারাক্ষণ মাথায় ঘুরতে থাকে, কিছু একটা করতে হবে আমাকে এবং যেভাবেই হোক করতেই হবে! কিন্তু আমিতো বাসা থেকে বের হতে চাইনা। মনে মনে এমন একটা কাজ খুঁজতে থাকি যেটা করতে আমাকে বাসা থেকে বের হতে হবেনা। যেই কাজের কোন বাধাধরা সময় থাকবেনা। আমার ইচ্ছামত

সুযোগ সুবিধা মতো আমি করতে পারবো, আবার চাইলেই বন্ধও রাখতে পারবো। মোট কথা যে কাজ করতে গিয়ে আমার সংসারে বা বাচ্চাদের কোন ইফেক্ট পরবেনা এমন কাজ খুঁজছিলাম মনে মনে।

নিজের একটা পরিচয়, আমিও একটা কিছু করি..বা দিন শেষে একটা আত্নতৃপ্তির অভাবে ভুগছিলো আমার মন সারাক্ষন। কিন্তু সাহস করে কিছুই শুরু করা হয়ে উঠছিলোনা। রান্না করতে খুব ভালোবাসি বলে আমার বর-ই হঠাৎ একদিন আমাকে বুদ্ধি দিলো রান্না নিয়ে কাজ শুরু করার জন্য। আর শাশুড়ীও আমাকে উতসাহ দিয়েছে এই ব্যাপারে,  দিয়েছেন সাহসও।

শুরুতেই ধুমধাম করে এভাবে রেসপন্স পাবো একেবারেই ভাবিনি!

কিন্তু জানিনা কি হলো…শুরু থেকেই কিযে অদ্ভুত নেশা আর ভালোলাগায় জড়িয়ে গেলাম এই কাজের সাথে যে আর থামাই হলোনা।

অর্ডার পেতে থাকলাম। কাজ করতে করতে প্রতিদিন শিখতে থাকলাম নতুন কিছু। ভুলভাল কাজ চেষ্টা করেছি যথাসাধ্য না করার। তবে একেবারেযে করিনি তা-ও না। আর শিখেছি এই ভুলগুলো থেকেই সবচেয়ে বেশি।

সেরকম একটা গল্প বলি..

প্রথম যেদিন আমার ১৮০ জনের অর্ডার এসেছিলো.. ভেবেছিলাম এ আর এমন কি! নিশ্চয়ই পেরে যাবো।

নুডলস রাধতে আর কতক্ষন লাগবে!

চিকেনটাও নাহয় রাতেই মাখিয়ে রেখে দিবো, সকালেতো শুধু ভাজতে হবে!

সেমাই বরফিটাও নাহয় আগের রাতেই সেরে ফেলবো। ব্যাস..যেনো মনে মনে হয়েই গেলো রান্না!! 😂

কিন্তু সকালে ১৮০ জনের নুডলস সেদ্ধ করার পর মনে হচ্ছিলো, আমি নুডলস রাধবো, নাকি নুডলস আমাকে রাধবে?!! 🤷‍♀ এতগুলি নুডলস’য়ের জন্য ডিম লাগবে যতগুলো, সেগুলো ফাটানোর জন্যই শুধু আলাদা একজন কর্মচারী থাকে হোটেলগুলোতে। আমার দুটো হাত আর আমার সহকারীর দুটো, এই চারহাত মিলে বহু যন্ত্রনার শিকার হয়ে রাধা হলো সেই নুডলস।

তারপর চিকেন ভাজা। ওরে আল্লাহ চিকেন তো শুধু ভাজাই একমাত্র কাজ না। সেটা কোটা, ধোয়া,গোনা, মসলা মাখানো, অল্প কয়েকটা করে আলাদা ব্যাচে ভাজা..  ১৮০ টা চিকেন ফ্রাই অর্ডার মানে যে অনেক তা তখন আবারও টের পেয়েছিলাম। 🤦‍♀

সেমাই বরফিটা বেশি বানিয়ে আগেই অভ্যাস ছিল, তাই তেমন কিছু মনে হয়নি। তাছাড়া আগের রাতেই করে রেখেছিলাম সেটা।

কিন্তু রান্নাতো হলো, এবার বক্সে উঠানো?!

১৮০ টা খাবার প্যাক করতে গিয়ে দেখি এলাহি কান্ড! ওরে আল্লাহ! ১৮০ টা বক্স গুনে বিছিয়ে যখন রেডি করলাম তখন আরও একবার বুঝলাম, ১৮০ টা অর্ডার মানে অনেক!!

১৮০ টা অর্ডার মানে অনেক প্রিপারেশনের ব্যাপার, হিসেবের ব্যাপার, অভিজ্ঞতার ব্যাপার, বুদ্ধির ব্যাপার, সময়ের ব্যাপার, আর প্রতিটা কাজে চারগুন দক্ষ আর দ্রুত হওয়ার ব্যাপার।

আমরা যারা বাসা থেকে কাজ করি, তারা এভাবেই একটা একটা ধাপ করে পার হই আর নতুন কিছু শিখি। প্রতিবারই আর একধাপ করে এগোই। আমাদের এক লাফে এগিয়ে যাবার কোন পথ নেই। কারন আমরা নিজেদেরকে নিয়ে একা এগিয়ে যাই। রেডিমেড সব হাতের কাছে কিংবা প্রত্যেকটা কাজের জন্য আলাদা লোক নিয়োগ করা থাকেনা আমাদের। প্রতিটা কাজে আমাদের নিজেকেই দক্ষ হয়ে হয়। আর সেই জায়গা থেকে যারা একটু এক্সপার্ট হতে পারে, তারাই এগিয়ে যায় একধাপ করে সামনের দিকে।

তাই শ্রদ্ধা রইলো সব ঘরোয়া রাধুনিদের প্রতি। যারা এই অসম্ভব কঠিন কাজটাকে কি ভীষণ ভালোবেসে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

সবাই আমার সংসার আর সাংসারিক এই কাজের জন্য দোয়া করবেন। আর নিজেদের কাজগুলোকে ভালোবেসে ভালো থাকবেন অনেক অনেক। 💙

https://web.facebook.com/meherun.meghla/

আপনিও আপনার গল্প শেয়ার করতে চাইলে আমাকে মেসেজ করতে পারেন।

S.Z.PRINCE

facebookhttps://web.facebook.com/S.Z.PRINCE

Contact no. 01684722205