Contact us to get featured in Entrepreneurs Magazine TSM | Call: 01684722205

নারীদের সম্মান দিলে ভালো লাগে👏|Afsana Bhuyan Nipa

একজন মেয়ে থেকে যখন আপনি একজন নারীতে রূপান্তরিত হবেন সে মধ্যকার সময়টা একটু জটিল সব কিছু বুঝে ওঠার জন্য।কিন্তু যখন আপনি নারী থেকে মা-তে ধাবিত হবেন তখন আপনার একবারের জন্য কোন কিছু জটিল মনে হবে না।যারা মা তারা জানেন এ সময়টা কেমন যায়।

যেদিন আমি মা হয়েছি, সেদিন বুজেছি আমারও একজন মা আছে।সারারাত জেগে থাকার ফলে চোখের নিচে যেদিন কালচে দাগ পড়েছে,সেদিন প্রথম বুজেছি মা আমার জন্য কতটা কষ্ট করেছে দিনের পর দিন,রাতের পর রাত।এই ছোট ছোট ব্যাপারগুলো অনেক ভাবিয়েছে আমাকে আর তখন থেকেই মার জন্য কিছু করতে চেয়েছি।কিন্তু আমিও একজন মা,মেয়েকে রেখে বাইরে যাওয়া ভাবতেই পারিনা।

Networking এর স্টুডেন্ট আমি।আহসানুল্লাহ ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স এর উপর পড়াশুনা করে চাকরি করেছি আইটি কোম্পানি,পাবলিশার্স কোম্পানিতে।কিন্তু বিয়ের পড়ে সংসার,হাজবেন্ড,মেয়ে সবার আগে তারপর কাজ আমার কাছে।

২০১৫,২০১৬ এ সময়টা ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করেছিল দাপটের সাথে।আমিও কিছু না বুঝে হুট করে একটা পেইজ খুলে ফেলি।কিছু বিদেশি প্রোডাক্ট দিয়ে শুরু আমার পথ চলা।খুব ভালো চলছিল আমার বিজনেস,বুস্টিং ছাড়াই।কেন যেন হঠাৎ করেই হাপিয়ে উঠলাম বিদেশে পন্যের ভীরে।আনন্দ বা ইচ্ছে কোনটাই না পাবার ফলে রানিং বিজনেস অফ করে দিলাম।যদিও অনেককে বলতে শুনি দেশি পন্যের নাকি ক্লাস নেই,ফকিন্নি পন্য।অবাক লাগে এসব গরীব মানসিকতার মানুষদের দেখে,কস্ট লাগে তাদের জন্য।

বিজনেস করাটা সহজ কিন্তু একজন ভালো উদ্যোগতা হবার ইচ্ছেটা কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং।যদি কোন সাপোর্ট বা গাইডলাইন না পান তাহলে বেশ কঠিন কম্পিটিশন এর সময়টাতে।

২০১৯ এ Women e-Commerce Forum (WE) নামের একটা গ্রুপ পেলাম।যেখানে এমন একজন মেন্টরকে পেলাম যার জীবনের একটা বড় সময় মেধার মূল্যায়ন পেতেই চলে যায়।এমন একজন টিচারকে পেলাম যার থেকে সত্যি বলছি শেখার অজস্র কিছু আছে।তিনি হচ্ছেন রাজীব আহমেদ স্যার।উই থেকে বিজনেস পলিসি গুলো শিখলাম।আমি যে কনটেন্ট লিখছি তাও কিন্তু উই থেকেই শিখেছি।

দেশকে ভালোবাসি।দেশের ঐতিহ্যকে ভালোবাসি।আর তাই তো দেশীয় শাড়ি নিয়ে কাজ করছি।

পাহাড় ভালোলাগে।সূর্য ওঠার আগে পাহাড়,মেঘ এর মেলবন্ধন দেখেছি,মুগ্ধ হয়েছি।পাহাড়িদের সহজ সরল কথা শুনেছি,ভালো লেগেছে।তাই মণিপুরী শাড়ি নিয়ে কাজ করছি বেশি দিন হলো না।তবে মণিপুরী শাড়ি নিয়ে লেখাপড়া টা চালিয়ে গেছি।

মণিপুরী শাড়ি তাঁতিদের থেকে বানিয়ে নিয়ে তার মাঝে ফিউশন করাটা আমার কাজ।মণিপুরী শাড়ির ডিজাইন হালকা বলে অনেকে সুন্দর বলে,কিন্তু নিতে চায় না।এসব কথা মাথায় রেখে আমার কাজ শুরু হয় শাড়ির ফিউশন নিয়ে।ঐতিহ্যকে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে,একটু ভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করি সবার মাঝে।ঐতিহ্যকে আধুনিকতার ছোঁয়ায় রাঙাই।যখন কাজ শেষ করি,তখন সবাই বলে “এই প্রথম ভালো লাগলো এতো বেশি মণিপুরী শাড়ি” তখন নিজেই আনমনে খুশি হই,আর নিজেকে বলি দায়িত্বটা বেড়ে গেল।

সামনের দিকে আরো কিছু প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করবো তবে দেশি থাকবে কথা দিচ্ছি।নতুন নতুন কাজ করে চমকে দিতে চাই যাদের আমার প্রতি অগাধ আস্থা।

প্রিন্স ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।আমার মতো নতুন একজন উদ্যোগতাকে সুযোগ করে দিয়েছেন নিজের কাজ নিয়ে কিছু লেখার জন্য।আমরা যারা ই-কমার্স নিয়ে কাজ করছি তাদের ক্লায়েন্টদের কাছে যাবার একটাই পন্থা থাকে পন্য নিয়ে লেখার মাধ্যম।আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।ভালো লাগে যখন নারীদের কেউ সম্মান দেয়।

এখন আমাকে সবাই জানছে,চিনছে। তাই সেলটা খুব একটা বেশি নয় তবে সামনে হবে প্রত্যাশা করতেই পারি।আমার কাজ দিয়ে আমাকে সবাই চিনবে,জানবে,মনে রাখবে এই একটাই প্রত্যাশা।সবাই পাশে থেকে অনুপ্রেরণা দিবেন,সবাই আয়নাবতীর পাশে থাকবেন।

দোয়া করবেন আমার মা এর স্বপ্ন পূরণ করতে পারি।

আয়নাবতী

https://web.facebook.com/1834721216842500/posts/2673485016299445/

S.Z.PRINCE

facebookhttps://web.facebook.com/S.Z.PRINCE

WhatsApp no. 01684722205

Magazine page: https://web.facebook.com/TSMEntrepreneursMagazine