Contact us to get featured in Entrepreneurs Magazine TSM | Call: 01684722205

বাড়ির বড় মেয়ে, এই দায়িত্ব বোধ থেকেই আজ তাস্ফিয়া উদ্যোক্তা|

আমি তাস্ফিয়া তৃণয়।

যদিও ঢাকা বিক্রমপুরের মেয়ে। কিন্তু জন্ম ও বেড়ে ওঠা যশোর জেলায়।  বর্তমানে পড়াশোনার জন্য আছি ঢাকাতে।আমি সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী।সমাজকর্মী হওয়ার খুবই ইচ্ছা,এ থেকেই আজ আমি সমাজকর্মের ছাত্রী।

ছোট থেকে আমি বেশ খুতখুতে অন্যের কাজ কেন যেন পছন্দ হয় না। ছোট থেকেই আমি নিজের কাজগুলো নিজে করতে পছন্দ করি। টাকা জমিয়ে শখের জিনিস কেনা কাটা ছোট থেকেই একটা অভ্যাস।  বাড়ির বড়  মেয়ে হিসেবে ছোটবেলা থেকেই একটা দায়িত্ব বোধ কাজ করতো! ও হ্যা আমার একটা বড় ভাই ছিল। আমি ছিলাম তার আদরের ছোট বোন৷ ভাইয়া হঠাৎ করে চলে গেল আমাদের ছেড়ে। তারপর ছোট দুইটা বোন। এরপর আমি হয়ে উঠলাম বাড়ির বড় মেয়ে। টাকা জমিয়ে আম্মু- আব্বু ও ছোট দুই বোনকে কিছু কিনে দেওয়া আমার ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকেই অভ্যাস। বরাবরই আব্বুর কাছে কোন কিছু নিয়ে আবদারটাও কমই করতাম। যদিও আব্বু আবদার রাখতো কিন্তু  আব্বু রাগী এজন্য ভয় পেতাম। তবে আম্মুর কাছে বেশি আবদার করতাম। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে হয়েও কখনও কোনো কিছুর অভাব বুঝতে দেন নি আম্মু- আব্বু। মধ্যবিত্ত পরিবারের কিন্তু চলাফেরা দেখে মানুষ ভাবতো না জানি কি!!!!

৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বৃত্তির টাকা দিয়ে  সবার জন্য কেনাকাটায় ছিল আমার একমাত্র কাজ।

ভার্সিটি শুরুর পর টিউশন আর পার্ট টাইম জব শুরু করলাম! কিন্তু আমার ভাগ্য টা খুবই ভাল। কখনো দুই মিনিট লেট কিংবা অনুপস্থিত থাকলে স্টুডেন্ট এর মা কিংবা অফিসের বসের চোখ রাঙানি কখনোই  দেখতে হয়নি। কারণ প্রতিটা কাজই আমি নিজের বেস্ট পরিশ্রম দিয়ে পারফেক্ট করার ট্রাই করতাম। অনুপস্থিত কিংবা লেট হলেও আমার কাজ ও পড়ানো ছিল তাদের খুবই পছন্দের।

এমনিতেও ছোট থেকেই  কারো অর্ডার ফলো করে কাজ করতে ভাল লাগতো না! তবে ভালবেসে কেউ কোন কাজের কথা বললে আমি খুবই খুশি তা করে দিতে রাজি। যেসকল প্রতিষ্ঠানে জব ও টিউশন করেছি সবাই আমাকে খুবই ভালবাসতো। কখনোই তাদের দ্বারা আমি কষ্ট পাই নাই।

জব করেছি অনেক প্রতিষ্ঠানে অটিজম স্কুল, নরমাল স্কুল,কলেজ,ভিসা অফিস ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে।

এগুলোর মধ্যে সবথেকে পছন্দের প্রতিষ্ঠানটি ছিল অটিজম স্কুল।  এটাই ছিল আমার জবনে প্রথম জব। গিয়েছিলাম স্কুলটা দেখতে তবে ছোট ছোট বাচ্চা গুলো দেখে দুচোখের পানি আটকে রাখতে পারছিলাম না। অনেক মায়ায় পড়ে গেলাম এই অসহায় বাচ্চাদের । কাজ শুরু করলাম ৩-১০ বছরের অটিজম বাচ্চাদের নিয়ে।

এভাবে চলতে থাকে জব ও টিউশন।

জব ও টিউশনের টাকা জমিয়ে চলতো আমার ঈদের শপিং। ঈদ আসলেই সব টাকা নিয়ে যেতাম উত্তরা শপিং মলে৷ তরপর সব কেনা কাটা করতাম আম্মু-আব্বু ও দুই বোনের। নিজের টাকায় পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটায় ছিল আমার বড় সুখ। তারপর থেকে এটায় হয়ে গেল আমার নেশা।  নিজের টাকায় পরিবারের জন্য শপিং।

যাইহোক ৩ বছর এভাবেই কাটলো। এরপর করোনার মধ্যে লম্বা সময়ের জন্য যখন বাড়িতে থাকা শুরু  কটলাম, বুঝতে পারলাম  আব্বু বয়সের সাথে সাথে বেশ দূর্বল হয়ে পড়েছেন। ভাবলাম মানুষ টাকে আর কষ্ট করতে দেওয়া যাবে না। আম্মু আর আমি দুজন বসে সিধান্ত নিলাম আব্বুর আজ থেকে ছুটি। চিন্তা করলাম আমার ভাই নেই। আব্বু- আম্মুর বৃদ্ধকালে আমি ছাড়া তাদের দেখার কেউ নেই। বুঝলাম মাঠে নামতে হবে আমার। প্রফেশনালি নিজেকে কিছু করতে হবে।

প্রথমে ভাবলাম গর্জিয়াস থ্রি-পিচ নিয়ে কাজ করবো।পরে চিন্তা করলাম এগুলো ড্রেস সবাই রেগুলার কিনবে না। এমন কিছু নিয়ে কাজ করবো  যেন সবার কাছে তার ব্যবহার টা বেশি হয়।আর আমার সেলটাও বেশির দিকে যায়।

এরপর খুব ছোট্ট করে কাজ শুরু করি! আমি বাসায় পরার জন্য তাঁত ও বাটিকের ড্রেস খুবই পছন্দ করতাম! সেখান থেকেই মনে হলো এটা নিয়েই কাজ করি! সত্যি বলতে তখনো পুরোপুরি বিজনেস কি বুঝিনি! তারপরও শুরু  করে দিলাম ।  খুব স্লো যাচ্ছিলো ১ সপ্তাহ সব! এরপর পরিচিত হলাম উই পরিবারের সাথে । ২ মাসে বেশ এগিয়ে গেলাম৷  সিদ্ধান্ত নিলাম আমি এটাকেই আকড়ে ধরবো নিজের একটা আইডেন্টিটি এই বিজনেসের মাধ্যমেই তৈরি করবো।

নিজে যেহেতু মধ্যবিত্ত তাই বাজেট ইস্যূটা মাথায় রেখে ৫০০ থেকে শুরু করে ১০০০ টাকা পর্যন্ত রেখেছি বিভিন্ন ক্যাটাগরির দেশীয় থ্রি-পিচ! যেমন-আড়ং তাঁত, চুমকি তাঁত,এক কালার তাঁত,বিভিন্ন ধরনের বাটিক, লোন,কটন ও সাথে কিছু জুম পার্টি শাড়ির কালেকশন!

আমার এই যাত্রায় পাশে পেয়েছি সবাইকে। পথে চলার সময় পরিবারের সবার সাপোর্ট  ছিল। কষ্ট শুধু আম্মু আব্বুর আমার মেয়েটা এত কষ্ট করবে। আব্বু আমাকে সব সময় একটা পরামর্শ দিয়ে যান কিভাবে ক্রেতাকে সর্ব্বোচ সেবা দেওয়া যায়।

নিজে বেশ অনেক হাতের কাজ ও জানি। ইচ্ছা আছে নিজের ডিজাইনেও কিছু হ্যান্ড প্রিন্টের থ্রি-পিচ করব! কামিজের সাথে মিলিয়ে পাঞ্জাবী রাখব!

আমরা যারা মধ্যবিত্ত আছি তাদের শখ থাকলেও সাধ্য থাকে না! এজন্য তাদের কথা মাথায় রেখে আমি কাজ করে যাচ্ছি ! ধীরে ধীরে নিজের কাজের পরিধি  বাড়ানোর চেষ্টা করছি! বিজনেস নিয়ে উই থেকে শিখছি অনেক কিছু ! ই-কমার্সের অনেক অজানা বিষয় জানতে ও শিখতে পারছি রাজীব আহমেদ স্যারের এই প্লাটফর্মের জন্য! উদ্যোক্তাদের জন্য অনেক উপকারী একটা প্ল্যাটফর্ম উই! যেখানে বিনা পয়সায় এমন সব বিষয় শেখা যায় যা  কোন সফল উদ্যোক্তাকে কোটি টাকা দিলেও অন্যদের কখনই শেখাবে না।

স্বপ্ন পূরণের পথে গুটি গুটি পায়ে হাঁটছি! অন্যের বিশাল রাজ্যে আর কত দিন প্রজা হয়ে থাকবো! চিন্তা করলাম নিজের ছোট্ট একটা রাজ্য তৈরি করি,যে রাজ্যের রানী হয়ে থাকব একমাত্র আমি! সেই রাজ্য তৈরির চেষ্টায় পাড়ি দিচ্ছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। দেশীয় পন্য কে নিয়েই এখন আমার সব স্বপ্ন! আমার পেইজের সিগনেচার প্রডাক্ট তাঁতের থ্রি-পিচ। ☺

ওনার অফ- TriNoy Collection

https://www.facebook.com/TriNoy-Collection-108406204030553/
https://www.facebook.com/TriNoy-Collection-108406204030553/

S.Z.PRINCE

facebookhttps://web.facebook.com/S.Z.PRINCE

Contact no. 01684722205