Contact us to get featured in Entrepreneurs Magazine TSM | Call: 01684722205

শিক্ষকতার পাশাপাশি একজন সফল উদ্যোগতা হওয়ার চেষ্টা|মাহমুদা আক্তার পপি

মাহমুদা আক্তার (পপি) বাসার সবাই, স্কুলের বন্ধুরা সবাই পপি নামে ডাকে। ২০০৯ এ ফেসবুক প্রোফাইলে মেঘপরী নাম দেওয়া হয়েছিল। ফেসবুকের বন্ধুরা সবাই মেঘ বলে ডাকে।

ঢাকা বাসাবো এলাকায় থাকি। ভাই বোনদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট বোন। বাবা পাঠ মন্ত্রণালয়ে চাকুরি করতেন। সরকারি চাকুরিজীবী ছিলেন তাই বাবা বিভিন্ন জেলায় থেকেছেন। বাবা মারা যাওয়ার পরে আমরা ঢাকায় চলে আসি।
মা ছিলেন গৃহিণী। মায়ের যেমন ছিল রান্নার উপর দক্ষতা, তেমনি ছিল বিভিন্ন শিল্পকর্মেরও সুনিপুণ দক্ষতা সম্পন্ন একজন মানুষ। আম্মুকে দেখেছি বিভিন্ন শিল্পকর্মের কাজ অনেক নিখুঁতভাবে করতে।আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা বোনেরা সবাই সেই গুণটা পেয়েছি।

আমি যখন খুব ছোট তখন বাবা চলে গেলেন পরপারে। সব ভাই বোন তখন স্কুলে পড়ত। শুরু হলো মায়ের একাকী জীবন আর সব সন্তানদের মানুষ করার প্রচেষ্টা। আমাদের সবার একই প্রচেষ্টা লেখা পড়া করতে হবে। সবাই তাই করেছি। শুধু বাবা মা দেখে যেতে পারলেন না।

আমি যখন মতিঝিল মডেল স্কুল এণ্ড কলেজ থেকে ইন্টার পাস করে অর্নাসে ভর্তি হবো, ঠিক সেই সময় মা পরপারে চলে গেলেন। সেই মূহুর্তে মনে হয়েছিল এখন আর কাকে নিয়ে কিভাবে বাঁচবো?

আমার আম্মুর খুব ইচ্ছে ছিল আমাকে শিল্পকলায় পড়াবেন। মায়ের ইচ্ছে পূরণের জন্যই গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে ব্যবহারিক শিল্পকলায় ভর্তি হয়ে গেলাম। আর অন্য কোথাও ভর্তি হওয়ার চিন্তাও করিনি কারণ আমার কাছে আমার মায়ের এইটা ছিল শেষ চাওয়া।

সবার দোয়ায় আমি ব্যবহারিক শিল্পকলা বিভাগ থেকে অনার্স-মাষ্টার্সে প্রথম বিভাগে ১৩ তম স্থান পেয়ে লেখা পড়া শেষ করি।

রেজাল্ট পেয়ে আমার বান্ধবীরা যখন বাবা, মাকে ফোন দিয়ে রেজাল্ট জানাত তখন যে কি কান্না পেয়েছিল। আপু ভাইকে জানালাম অনেক খুশি হলো। সবাই খুশিতে কত কত গিফট দিলেন। শুধু মনের মধ্যে একটাই কষ্ট বাবা মা দেখে যেতে পারলেন না, তাদের ছোট্ট মেয়েটা কত বড় হয়ে গেছে।

পেশাঃ
পেশায় একজন স্কুল শিক্ষিকা। আমি
” লিটল এঞ্জেলস লার্নিং হোম” স্কুলে শিক্ষকতায় আছি। পাশাপাশি হোম মেইড ফুড নিয়ে কাজ করছি। আমার সিগনেচার ফুড বালুশাই মিষ্টি । ঘরে বসে সব ধরনের খাবার তৈরি করে হোম ডেলিভারি দিয়ে থাকি।

খাবার নিয়ে কাজের যাত্রাঃ
আমার বোন হাফিজা কানন আপুকে সাথে নিয়েই খাবারের কাজ করতে সাহস পাই। আপু আছে তাই একের পর এক মোজো পিঠা উৎসবে অংশ গ্রহণ করি। লেখা পড়ার পাশাপাশি আপুর অনুপ্রেরণা আর সহযোগিতা ছাড়া পিঠা উৎসবে অংশ নেয়াটা আর হোম ডেলিভারি দেওয়া আমার জন্য এত সহজ কাজ হত না।

অনার্স প্রথম বর্ষরের ছাত্রী তখন ”মোজো” টি এস সি তে আয়োজন করেছিল পিঠা উৎসবের। সেই সময় বান্ধবীরদের সাথে নিয়ে উৎসবে যোগ দিলাম।সেই থেকে আমার খাবার নিয়ে কাজ করা যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরে মোজো আবার ওয়ান্ডারল্যান্ডে পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছিল। সেই উৎসবেও অংশ গ্রহণ করলাম।

লেখাপড়ার জন্য সেই সময় খুব বেশিদিন কন্টিনিউ করতে পারিনি।
২০২০ সালে মে মাসে Women and e-commarce Group এ এড হয়েছি। এই গ্রুপ দেখে অনুপ্রেরণা পাই কাজ করার। পুনরায় খাবার নিয়ে কাজ শুরু করি। এখন শিক্ষকতার পাশাপাশি এই কাজ করে যাচ্ছি। সবার দোয়ায় বালুশাই মিষ্টি ঢাকার বাইরেও ডেলিভারি দিচ্ছি। মেইন ডিশ, ডেজার্ট আইটেম পিঠা সব ধরনের খাবার ডেলিভারি দিচ্ছি। ভালই ব্যস্ততা কাটছে এসব কাজ নিয়ে। কিছুদিন আগে অফিসে ৫০ জনের দুপুরের খাবার ডেলিভারি দিয়েছি।

কাজ নিয়ে স্বপ্নঃ
রান্না করাও এক ধরনের শিল্প। এই কাজ সুন্দরভাবে করে এগিয়ে যেতে চাই বহুদূর। একজন সফল উদ্যোগতা হতে চাই। সেই জন্য দুইটা কোর্স করেছি আরো বেশ কিছু কোর্স করার ইচ্ছে আছে। ইনশাআল্লাহ কোর্সগুলো করবো। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন আমি যেন একজন সফল উদ্যোগতা হতে পারি।

আমি আর আপু সব সময় চেষ্টা করছি খাবার পরিস্কার পরিছন্নভাবে কাস্টোমারের কাছে খাবার পৌছে দেওয়ার জন্য। কোন ডেলিভারি বয় দিয়ে নয়, নিজেরাই কাস্টোমারের কাছে খাবার ডেলিভারি দিয়ে থাকি।

শখ :
ছোট্ট বেলা থেকে ছবি আঁকতে খুব পছন্দ করতাম।বিভিন্ন কার্টুন চরিত্রগুলো অনেক একেছি। স্কুলে পড়তাম তখন সাহস করে কাজী নজরুল ইসলামের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিও এঁকেছি।

কৃতজ্ঞতাঃ
রাজীব স্যার আর নিশাপুকে অনেক ধন্যবাদ দিলেও কম হয়ে যায়। কারণ ওনাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই WE আছে। আর WE আছে বলেই আমাদের মত উদ্যোগতারদের অবিরভাব হচ্ছে।

আমার এই উদ্যোগটাকে প্রচারের জন্য প্রিন্স ভাই আর TMS কে অসংখ্য ধন্যবাদ।

পেজ লিংক-

https://www.facebook.com/PopAs-KitcheN-CrafT-102136768200618/


S.Z.PRINCE

facebookhttps://web.facebook.com/S.Z.PRINCE

WhatsApp no. 01684722205

Magazine page: https://web.facebook.com/TSMEntrepreneursMagazine

আপনিও আপনার গল্প শেয়ার করতে চাইলে আমাকে ম্যাসেজ করতে পারেন।