Contact us to get featured in Entrepreneurs Magazine TSM | Call: 01684722205

“বোধ আর উপলব্ধির উদয়ে উদ্যোক্তা “|শাওলীন ফেরদাউস

আমার উদ্যোক্তা হবার গল্প যদি শেয়ার করতে হয় তো আসলে অনেক কথাই বলতে হবে কিন্তু জানি যা বলতে চাই তা ঠিকঠাক প্রকাশ করতে পারবো না।
আমি শাওলীন। আমার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা লক্ষ্মীপুর জেলায়।
জীবনের একটা বড় অংশ যদিও ঢাকা শহরেই কাটানো।
এইচ.এস.সি পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর ই ছিলাম,পাশ করে ভর্তি হই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তারপর পড়ালেখা শেষ করে একটা চাকরী নিয়ে আবার লক্ষ্মীপুর চলে যাই। বিয়ের পর আবার ঢাকায় বসবাস শুরু! স্থানের দূরত্বের কারণে চাকরিটা ছেড়ে দেই তখন।বর্তমান ঠিকানা বলতে গেলেও আসলে একটু পেছনের কথা টানতে হবে। আমার শ্বশুরবাড়ি ঢাকায় তাই বিয়ের পর ঢাকায় ই থাকতাম। কিন্তু আমার হাজবেন্ডের চাকরী সূত্রে নোয়াখালী জেলায় চলে যাই পরে আবার!নতুন করে সেখানে থাকা শুরু।তো গত বছর এর শুরু থেকে করোনা পরিস্থিতির কারণে আমরা ঢাকায় আসি এবং নোয়াখালী আর যাই নি। কারণ,আমার হাজবেন্ড পেশায় একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক,আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গত বছর থেকে বন্ধ ই আছে।
তাই আপাতত বর্তমান ঠিকানা আবারো ঢাকা।
বিজনেস শুরু করেছি অল্প কয়েক মাস।২০২১ এর জানুয়ারি থেকে। আমার উদ্যোগ এর নাম “Ratnakor-রত্নাকর”।
শুরু করাটা আসলে হুট করে।হুট করে মানে হচ্ছে কারো সাথে তেমন কোন রকম আলাপ-আলোচনা করা ছাড়াই শুরু করা এই অর্থে। কারণ এর আগে অনেক কিছু নিয়েই অনেক ভেবেছি আলোচনা করেছি কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে নি ঠিকঠাক। তাই এবার আর বেশি ভাবি নি।

তো গল্প টা বলতে গেলে বলতে হয় নিজের উপর থেকে নিজের হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাসটা ফিরে পেতে ই আসলে শুরু করা কাজ টা। ছোটবেলা থেকে পরিবার এর মানুষ জন বা শিক্ষকদের অনেক স্নেহ-ভালোবাসায় বেড়ে উঠেছি আমি। আমাকে ঘিরে অনেক রকম স্বপ্নও ছিল অনেক এর। জীবনের এই পর্যায়ে এসে মনে হল আসলে আমাকে নিয়ে দেখা আমার নিজের বা আমার কাছের মানুষদের স্বপ্নগুলোর থেকে অনেক অনেক দূরে চলে এসেছি আমি। এই অপরাধবোধ তাড়া করতো ভেতরে ভেতরে খুব বেশি।আমার ছোট মেয়ের জন্মের পর থেকেই এই বোধটা আরো অনেক বেড়ে গেল। এ ক্ষেত্রে একটু বলে নিই আমার দুটো মেয়ে। এবং তাদের দুজনের বয়সের পার্থক্য ২ বছরেরও কম। আমার বড় মেয়ে “তাথৈ” এর বয়স আগামী মাসে ৩ বছর হবে আর ছোট মেয়ে “ছন্দ” র বয়স এ মাসে ১ বছর হল। ঐ যে শুরুতে বললাম বিয়ের পর আগের চাকরি টা ছেড়ে দেই,তখন তো জানতাম অন্য একটা চাকরিতে জয়েন করে ফেলবো আবার আস্তে-ধীরে। কিন্তু খুব অল্প সময়ের ব্যাবধানে ওদের দুজনের জন্ম হওয়ায় একটা নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে পড়ি,যা সামাল দিতে গিয়ে নিজেকে কিংবা পড়াশোনায় সময় দিতে পারি নি।এ রকম কিছু না করে থাকা আমার জন্য অনেক বড় একটা মানসিক যন্ত্রণাকর ব্যাপার ,যা হয়তো আমি কাউকে ই কোন দিন বুঝতে দেই নি।
তাই কেউ জানেও না।

Page- https://www.facebook.com/rotnakorpage/

আমার জীবনে একমাত্র স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া,একমাত্র বলতে একমাত্র স্থির লক্ষ্য!যা সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়া হয়!মানে এমন একটা গন্তব্য যেখানে পৌঁছানোর জন্য ই আপনি পথে নামবেন এবং শেষ পর্যন্ত পৌঁছাবেন ই!এর পর বাদ-বাকি আর কী করবো,কী হব সেটা নিয়ে আমার তেমন কোন ইচ্ছে বা পরিকল্পনা ছিল না। তবে হ্যাঁ,একটা কিছু করতে হবে এই ব্যস!
খুব বড় পদ বা পদবী এসব আমার কাছে সব সময় ই গৌণ!জীবনে সুখী,হবার চেয়ে শান্তিতে থাকাটাকে আমি প্রাধান্য দেই,তার জন্য খুব অল্পতে সন্তুষ্ট হয়ে যাই আমি।
কিন্তু তাই বলে একেবারে বসে থাকা নয় অবশ্যই!
তো আমার দু’মেয়েই যেহেতু ছোট ওদের পেছনে আমাকে অনেক বেশি ই সময় দিতে হয় স্বাভাবিকভাবে ই। কিন্তু বেশ কিছুদিন থেকে ই মনে হচ্ছিল “শুধু বাচ্চা জেগে আছে বলে আমিও জেগে আছি,বাচ্চার জন্য কিছু করতে পারছি না বা পারি নি” এই রকম কথা গুলোর আসলে কোন ভিত্তি একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে গিয়ে আর থাকবে না!
এবং একটা সময়ের পরে গিয়ে ওদের জন্যেও এই লাইনগুলো একটা বোঝা হয়ে যাবে হয়তো! এখন যে অপরাধবোধ আমাকে তাড়া করছে কিংবা সত্যি বলতে ওদেরকেও অনেক ক্ষেত্রেই দায়ী মনে হচ্ছে আমার বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ,এই একই অনুভূতি আর কয়েক বছর পর ওদেরও হবে না তো???ওদের মাকে ওরা বড় হয়ে কিভাবে পাবে,বা কি হিসেবে মায়ের পরিচয় করিয়ে দেবে?এমন কিছু জিজ্ঞাসা,বোঝাপড়া নিজের সাথে নিজেই করতে লাগলাম প্রতিনিয়ত!
সেই বোঝাপড়ার পরিণতি,সেই জিজ্ঞাসার উত্তরেই আসলে আমার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা শেষ পর্যন্ত।

আর এর অনেক টুকু ধন্যবাদ ই আমি আমার ছোট মেয়ে ছন্দকে দেব!কারণ,ওর জন্মের সাথে সাথে ই আমার এই নতুন রূপের জন্ম!ও না জন্মালে হয়ত আমি এতটা সাহস,এতটা শক্তি ফিরে পেতাম না। আমার বড় মেয়ের জন্মের পর আমিও নতুন করে জন্ম নিলাম একজন মা হিসেবে।দিন-রাত-মাস এমনকি বছর জুড়ে আমি শুধু ওর মা হয়ে হয়েই রইলাম,আমার আর সব পরিচয় ভুলেই গেলাম যেন। আর আমার ছোট মেয়ের জন্মের পর আমি আবার জন্ম নিলাম একজন ব্যক্তি মানুষ হিসেবে,যে পরিচয়টা আসলে সব কিছুর উর্দ্ধে!
নিজের মানুষ পরিচয়টা নিজের কাছে আবার ফিরে পেলাম বলে জীবনের অনেক হিসেব-নিকেষও যেন পাল্টে গেল।

Page- https://www.facebook.com/rotnakorpage/

কি কাজ করবো তা নিয়েও অনেক ভাবলাম।কিন্তু কোন কিছু স্থির করতে পারছিলাম না। কোথায় যেন একদিন “কোহিনূর হীরার”একটা কি লেখা পড়লাম। তারপর মণি-মুক্তা বা এই সংক্রান্ত জিনিস নিয়ে গুগলে একটু টুকটাক পড়াশোনা করলাম কিছুদিন।মুক্তা বা অরিজিনাল পার্ল সব সময় ই খুব ভাল লাগতো,এই সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানার পর ভালো লাগাটা আরো বেড়ে গেল।বেশ কিছুদিন আমার গুগল,ইউটিউব কিংবা ফেইসবুক সার্চ অপশনে শুধুই “পার্ল” মানে “অরিজিনাল পার্ল”!
তারপর একদিন সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললাম এই পার্ল নিয়েই কাজ করা শুরু করবো আমি!
অরিজিনাল পার্ল এর সোর্সিংটাই শুরুতে অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ ছিল আমার জন্য। খাঁটি জিনিসটা জোগাড় করা।পরে আমার বিশ্ববিদ্যালয় এর এক আপুর কাছেই পেয়ে যাই একদম অরিজিনাল পার্ল।
যেহেতু আমার কাজ অরিজিনাল পার্ল নিয়ে এবং সেটা বেশ এক্সপেন্সিভ তাই শুরুতেই আমার বেশ কিছু টাকা ইনভেস্ট করতে হয়। একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসবে সেটাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আমার জন্য।
তো ছোট হোক ,বড় হোক যেহেতু ব্যবসা চ্যালেঞ্জ নিতেই হবে। নিয়ে নিলাম!আর আমার জন্য কাজের সময় বের করাটাও অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। আমার মেয়েরা যেহেতু ছোট আর ওদের রেখে আমার কখনো সেভাবে কোথাও বের হওয়া হয় নি নিয়মিতভাবে । তাই কাজের প্রয়োজনে বাসার বাইরে বের হওয়াটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আমার জন্য।
তারপর মনে হল আমার মেয়েদের কিভাবে সরাসরি আমার কাজ এর সাথে যুক্ত রাখতে পারি যেন মনে হয় যে যা করছি তার সবটা ই ওদের জন্য করছি!সেই ভাবনা থেকে আমার ব্যবসায় একটা নতুন প্রোডাক্ট যোগ করলাম তা হল “বাচ্চাদের রেডি টু ওয়্যার শাড়ি”!
যেটা শুধু ই তাথৈ-ছন্দ কিংবা তাদের বয়সী অন্য বাচ্চাগুলোর সাথে একটা আত্মিক টান থেকে শুরু করা। এবং এই প্রোডাক্ট টা আমার কাছে যতটা না ব্যবসা তারচেয়ে অনেক বেশি ই আবেগ এর জায়গা! এরপর আসলে টুকটাক আরো কিছু জিনিস সংযোগ করি যা সাময়িক,আমার আসল কাজ এ দুটো জিনিস নিয়েই।
অরিজিনাল পার্ল এবং বাচ্চাদের শাড়ি।

Page- https://www.facebook.com/rotnakorpage/

শুরুতেই সেল কেমন ছিল?এমন প্রশ্ন যদি কেউ করে তো সেটার উত্তর হচ্ছে আসল আমার ব্যবসাটা এখনো একদম শুরুর দিকেই আছে!প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত খুব বড় কোন পরিবর্ত হয় নি। কেননা,আমার প্রায় সব ক্রেতাই আসলে এখন পর্যন্ত পরিচিত মানুষজন ই। তাই যেদিন থেকে শুরু করেছি ,আর আজকে যখন কথাগুলো বলছি মানে লিখছি আমি কিংবা আমার উদ্যোগ খুব একটা পরিবর্তন হয় নি।খুব অল্প সময় ই পার হয়েছে । আর এর মধ্যে আমি কাজ ও যে খুব বেশি করেছি তা নয়। বারবার ই আমার মেয়েদের কথা চলে আসছে ,এখন ওদেরকে সময় দিয়ে যেটুকু পারছি,সেটুকুই করছি। আর বৈশ্বিকভাবেই একটা দূর্যোগকাল যাচ্ছে এখন আমাদের। এই সব কিছু বিবেচনায় রেখেই আমি খুব সতর্কতার সাথে কাজ করছি। আর আমার খুব দৌড়ে,রাতারাতি অনেক কিছু করে ফেলারও ইচ্ছে নেই। আমি যেখানে যেতে চাই সেখানে আমি আস্তে-ধীরে পৌঁছালেই হবে। যাওয়ার পুরো পথটুকু দেখে-শুনে-চিনে তারপর যাব। যাবার পথে কখনো হয়ত গায়ে বৃষ্টির ফোঁটা পড়বে,কখনো মিষ্টি বাতাস এসে ছুঁয়ে যাবে,কখনো বা রোদ এসে চোখ ঝলসে দেবে ,হয়ত কখনো চেনা কোন ফুলের গন্ধে মন মাতোয়ারা হবে,আবার হ্ঠাৎ আসা ঝড়ের কবলেও পড়তে পারি,প্রকৃতির এই সবটুকু সত্যকে মেনে নিয়েই আমি সামনে এগুতে চাই।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বলতে আসলে এটা নিয়েই এগুতে চাই। যেহেতু চাকরি করি নি এতদিন,হয়ত আর করবোও না ,তো আমার সবটা পরিচয় ই এই বিজনেস নিয়েই গড়ে তুলতে চাই। মানে আমার মেয়েদের সাথে সাথে ই এই আমার এই প্রতিষ্ঠানটাকে বড় করতে চাই। ঠিক ওদের মত যত্নে,মমতায় আর ভালোবাসায়।আমি প্রায় ই একটা কথা বলি যে তাথৈ-ছন্দের মত রত্নাকরও আমার আর একটা সন্তান। তাই তিন জনকে এক সাথেই লালনপালন করতে চাই।
এমন একটা সময় এর স্বপ্ন দেখি যেদিন মানুষ হয়ত রত্নাকর নাম দেখেই আমাকে চিনবে কিংবা আমাকে দেখে রত্নাকরকে চিনে নেবে!
একটা কথা এক্ষেত্রে আমি একটু বলতে চাই,আমার আসলে ব্যবসা করে লাখপতি ,কোটিপতি হবার ইচ্ছে নেই,তাই আমি সেল কত হল তা নিয়ে চিন্তিত নই। আমি নিজের একটা পরিচয় ,একটা অস্তিত্ব চাই!
তো সে জন্য আমি একজন মানুষ এর কথা এখানে উল্লেখ করতে চাই। তিনি হচ্ছেন আমার বড় ভাইয়া!
ভাইয়া যদি কোনদিন আমাকে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে স্বীকৃতি দিন বা কারো কাছে আমাকে উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিন তবে সেদিন ই আমার এই উদ্যোক্তা জীবন পরিপূর্ণ হবে!কেননা,আমি কোন চাকরি না করে বসে আছি এতে করে সবচেয়ে বেশি কষ্ট আমার বড় ভাইয়া ই পাচ্ছে আমি জানি।
আর ভাইয়ার এই স্বীকৃতিটুকু আমি অর্জন করতে চাই,ততদূর আমি যেতে চাই!

এই ম্যাগাজিন কর্তৃপক্ষকে অনেক ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার জন্য। তাদের এই উদ্যোগ এর জন্য ই নিজের গল্পটা শেয়ার করতে পারলাম সবার সাথে।
সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। যেন মাঝপথে থেমে না যাই,বা যেতে না হয়!
যারা কষ্ট করে লেখাটা পড়লেন তাদের সবার জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা…

শাওলীন ফেরদাউস
সত্ত্বাধিকারী – Ratnakor-রত্নাকর

Page link- https://www.facebook.com/rotnakorpage/


আপনিও আপনার গল্প শেয়ার করতে চাইলে আমাদের ম্যাসেজ করতে পারেন।


S.Z.PRINCE

facebookhttps://web.facebook.com/S.Z.PRINCE

Contact no. 01684722205 (WhatsApp)

Magazine page: https://web.facebook.com/TSMEntrepreneursMagazine

আপনিও আপনার গল্প শেয়ার করতে চাইলে আমাকে ম্যাসেজ করতে পারেন।