Contact us to get featured in Entrepreneurs Magazine TSM | Call: 01684722205

সৃজনের বিজন কল্পে আমার এ উদ্যোগ|Dristy Kaji

আমি দৃষ্টি কাজী । জন্ম, বেড়ে ওঠা , শিক্ষাজীবন, বিয়ে এবং বর্তমান অবস্থান সব কিছুই ঢাকার মিরপুরে । অর্থাৎ , একদম পিওর মিরপুরিয়ান যাকে বলে 😀।
যদিও জন্মসূত্রে অর্থাৎ পৈতৃক সূত্রে আমি একজন মানিকগঞ্জের মানিক । সেদিক থেকেও পিওর মনিকগইঞ্জা , মায়ের সূত্রেও মানিকগঞ্জেই শেকড় বোনা।

অতিমারির ভয়াল করাঘাতে যখন আরোষ্ঠ জনজীবন । গৃহবন্দী দশায় যখন পার করতে হচ্ছিল প্রতিটিক্ষণ , চার দেয়ালের বর্ণিল রং আর ইউটিউবের সান্নিধ্যে সিনেমা দেখে দেখেই জীবন বয়ে যাচ্ছিল জীবনের নিয়মে । তেমনি এক মুহুর্তে হুট করেই উইয়ের সান্নিধ্য খুঁজে পেল এ জীবন এবং মুহূর্তের স্পর্শেই ফিকে হয়ে যাওয়া জীবন যেন খুঁজে পেল অন্য গানের সুর , ভিন্ন ভিন্ন রঙের ছোঁয়া।

সময়টা মে মাসের গোড়ার দিক উইতে সংযুক্তির পরবর্তী জীবন , জীবনের রং খুঁজতে আমাকে আর ফেসবুকের এ ধারে ও ধারে ঘুরে বেড়াতে হতো না কিংবা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় , যীশুসেন গুপ্তর দ্বারস্থ হতে হতো না ।
জীবনের রঙিন আনন্দ যা উত্তম শিক্ষায় পরিপূর্ণ তা আমি উইতেই খুঁজে পেলাম । সেসময়ের প্রতিটি পোষ্ট আমাকে অসীম সম্ভাবনার আলোকচ্ছটা পথ নির্দিষ্ট করে দেখিয়েছে। সে সময় রাজিব আহমেদ স্যারের একেকটা পোষ্ট ছিল যেন স্ফুলিঙ্গ । জামদানী রানী কাকলী আপুর জামদানী সংক্রান্ত পোস্ট গুলো ছিল একেকটি দিক নির্দেশনাদানকারী ছায়াপথ। সেই সাথে আরো একজনের নাম যা না বললে অন্যায় হবে , তিনি হলেন শ্রদ্ধেয় ঈসমাইল হোসেন ভাই । ঈসমাইল ভাই আমাকে একদম হাতে কলমে শিক্ষা যাকে বলে ঠিক তেমনিভাবে জামদানী সম্পর্কে শিখিয়েছেন এবং এমনকি এখনো আটকে গেলে তারই শরণাপন্ন হই। এই মানুষটির নাম আজীবন আমার অন্তরে শ্রদ্ধা ভরে গাঁথা থাকবে।

সেই সময়েই উইয়ের কোনো এক সতীর্থের লেখনী আমাকে ভীষন রকম উদ্বুদ্ধ করেছিল নিজ উদ্যোগ গ্রহণের পথে । তিনি লিখেছিলেন , “নিজের সর্ব ভালো লাগার ক্ষেত্রটি চিহ্নিত করুন এবং সেই ক্ষেত্রকে নিজের উদ্যোগ হিসেবে বেছে নিন । তবেই দেখবেন আর ফিরে তাকাতে হবে না। সঠিক পথের সন্ধান পেয়ে যাবেন ।”

এই কথার ভিত্তি করেই আমি আমার ভালো লাগার ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে বসে গেলাম এবং আমি আমার ভালো লাগা নয় বরং তার চেয়েও বেশি অর্থাৎ ভালোবাসার বিশেষ ক্ষেত্রটি খুঁজে পেলাম খুব সহজেই, আর তা হলো শাড়ী।

মন ভালো, খারাপ কিংবা বিশেষ মুহূর্তের সাথী আমার জীবনে শাড়ি ।
এই ভাবনা মাথায় আসতেই , দেশি যে শাড়ি আমার সবচেয়ে প্রিয় সেই ভাবনাটি মনের অজান্তেই তীব্রভাবে জাগ্রত হলো,তা হলো জামদানী শাড়ী।

খুব ছোটবেলার একটা গল্প সহভাগ করছি , আমার খালাতো বোনের সাথে বিশেষ সখ্যতার সুবাদে তাকে বলেছিলাম , “শোন আমার বিয়ের পর আমার ঘরে কাপড়ের একটি আলমারি থাকবে শুধু জামদানী শাড়ীর, সব রঙের জামদানী রাখবো আমার সেই আলমারিতে” সময়টা ছিল সম্ভবত ২০০০ সালের শুরুর দিকে😀😀

জামদানী প্রেম আমার সেই থেকে শুরু এবং এ পর্যন্ত উদ্যোগ জীবন শুরু পূর্বেই আমার জামদানী টু পিস , থ্রি পিস , শাড়ী সকল কিছুই তনুতে জড়ানোর সৌভাগ্য হয়েছে। শাড়ি গুলোও এখনো স্বমহিমায় রয়েছে আলমারিতে । এমনকি আমার হলুদের শাড়িটিও ছিল জামদানী।

নিজের প্রেমের ক্ষেত্রটি বুঝতেই গুগল এবং উইয়ের বিভিন্ন পোস্ট থেকে পড়ে পড়ে জামদানী শিল্প নিয়ে জানতে শুরু করলাম এবং জানার আগ্রহ যত পড়ছিলাম ততই যেন আমাকে জেঁকে বসছিল। যদিও সেই ধারাবাহিকতা এখনো বর্তমান ।
জুলাই থেকে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি লম্বা সময় পর্যন্ত বহুবার জামদানী পল্লীতে গিয়ে গিয়ে তাঁতীদের সাথে বসে , তাদেরকে একপ্রকার যন্ত্রনা দিয়ে দিয়েই তাদের থেকে নানা দিক সম্পর্কে জেনেছি ।

অক্টোবরের ২২ তারিখ আমি আমার প্রথম পণ্য ক্রয় করি এবং আমার টার্গেট ছিল আমি জামদানী শিল্প সমেত কিন্তু কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকে ইকমার্স ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করবো ।
কাজেই শাড়ি কিনে এনে বসে গেলাম কাগজ পেন্সিল সমেত । মজার বিষয় হলো , সেই সময় হাতের কাছে সাদা কোনো কাগজ না পেয়ে বড় মেয়ের পড়ার খাতাতেই একটি ডিজাইন এঁকে ফেললাম এবং সেই ডিজাইনটি এতটা জনপ্রিয়তা পেয়েছিল , যার মাধ্যমে শুরু হলো আমার সৃজন সমৃদ্ধ জামদানী শিল্পের উদ্যোক্তা জীবন ।

অক্টোবরের ৩১ তারিখ মামাতো ভাই আইমানের সহায়তায় ডোমেইন কিনলাম সূঁচশিল্প নামকরণে। পরেরদিন আমার মেঝদা আমার নিজের সৃজন সমৃদ্ধ জামদানী পরিহিত বেশ কিছু ছবি তুলে দিলেন । যাদ্বারা নভেম্বরের ১ তারিখে অফিসিয়ালি আমার প্রথম প্রকাশ ঘটলো ইকমার্স ইন্ডাস্ট্রিতে।

প্রথম মাসেই আল্লাহর রহমতে বেশ অনেকটা সাড়া পেয়ে গেলাম , যা আমাকে নব জাগরণে উদ্বুদ্ধ করে তুললো। আমার উদ্যোগের বয়স বুঝতেই পারছেন দু মাসের থেকে অল্প কিছুদিন বেশি কিন্তু লাখপতি হবার আর অল্পই বাকি আছে , আলহামদুলিল্লাহ । হয়তো আর অল্প কিছুদিনের মাঝেই নামটি অর্জন করতে পারবো ।

উদ্যোগ গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে শুরু করে এ যাবৎ পর্যন্ত যতটুকু এই আমি, তার সবটুকুর কৃতিত্ব আমার স্বামীর। একমুহূর্তের জন্যও সে আমার হাত ছেড়ে দেয়নি কিংবা এক মুহূর্তের জন্যও বিরক্তির বলিরেখা তার কপালে ফুটে ওঠেনি বরং তার অনুপ্রেরণা আমার শ্রবণ শক্তিকে নিরুৎসাহিত বাণী শোনার পথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
আমার জীবনের সবচেয়ে বড় বন্ধু শুরু থেকেই সে, বুক চেতিয়েই আমি কথাটি বলি এবং সে যথার্থই তার প্রমান রেখেছে।
তার জন্য গানের এই লাইনটি ডেডিকেট করছি ” এমন বন্ধু আর কে আছে , তোমার মত মিষ্টার”।
কাজেই স্ট্রাগল আমাকে সত্যিই করতে হয়নি।

অভিজ্ঞতার কথা বলতে গেলে , সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতা যা আমি অর্জন করতে পেরেছি তা হলো নিজের প্রতি প্রবল বিশ্বাস রেখে চোখ কান বুজে নিজের পথে সোজা হাঁটা। নানামুখী কথা কানে আসে না এমন নয়, কিন্তু ঐযে পরম বন্ধু আছে পাশে তাকেই শক্তি হিসেবে বরণ করেছি। সে ই যথেষ্ট বন্ধুর পথকে মসৃন করে তুলতে।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা সূঁচশিল্প যেন হয়ে উঠে অনন্য একটি নাম , একটি অতি পরিচিত ব্র্যান্ড । দেখুন,শাড়িতে কাজ হয়তো অনেকেই করাচ্ছে বা করায় কিন্তু নিজ হাতে একটি নকশা এঁকে , নিজের কল্পনা শক্তিকে তীব্রতার সাথে জাগিয়ে তুলে , মননের সবটুকু রঙ ঢেলে দিয়ে সুতোর বিন্যাস ঘটিয়ে অনন্য সৌন্দর্য মন্ডিত জামদানী কে আরো কিছুটা অনন্যতা দান করে প্রস্তুত হয়তো আর কেউ করে না। তবে হ্যাঁ এ কথাও সত্যি অনেকেই কাজ করান জামদানীতে। কিন্তু আমার ডিজাইনগুলো নিঃসন্দেহে ইউনিক যেহেতু তার আমার দ্বারা অঙ্কিত।

আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই আপনাদের ম্যাগাজিনটিকে। আপনারা যেভাবে আমাদের জন্য এগিয়ে এসেছেন তা সত্যিই অভাবনীয়। এই যে মনের কথাগুলো প্রাণ খুলে বলতে পারছি, এবং আপনারাও তা সাদরে গ্রহণ করছেন এ যে কতটা আনন্দের তা বলে বোঝানোর মত ভাষার দক্ষতা আমার নেই। নিঃসন্দেহে নব্য উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণা কল্পে এবং তাদের পরিচয় প্রকাশ কল্পে আপনাদের ম্যাগাজিনের উদ্যোগটি সত্যিই অসামান্য।
বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই প্রিন্স ভাই আপনাকে।

https://www.facebook.com/shunchshilpa/

S.Z.PRINCE

facebookhttps://web.facebook.com/S.Z.PRINCE

WhatsApp no. 01684722205

Magazine page: https://web.facebook.com/TSMEntrepreneursMagazine

আপনিও আপনার গল্প শেয়ার করতে চাইলে আমাকে ম্যাসেজ করতে পারেন।