Contact us to get featured in Entrepreneurs Magazine TSM | Call: 01684722205

গ্রামে বসে ৮ লাখ টাকার শাড়ী বিক্রি ৭ মাসে|Afrin Sultana Shilpy

আমি আফরিন সুলতানা শিল্পী
আমার পেইজ এর নাম কুশিমনা।
টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার  উপজেলার একটি গ্রাম  থেকে কাজ করি  টাঙ্গাইল শাড়ি  ও কুরুশের পন্য নিয়ে।

জন্ম আমার তাঁতী পরিবারে। টাঙ্গাইলের সম্ভ্রান্ত মুসলিম  তাঁতী পরিবারে আমার জন্ম।
ছোটবেলা থেকেই তাঁত এর সাথে বেড়ে ওঠা।সকাল বেলায় ঘুম ভাঙতো তাঁতের শব্দ শুনে আর রাতে ঘুমোতে যেতাম তাঁত এর শব্দ শুনে। শব্দ না শুনলে যেন ভাল লাগত না কোন কিছুতেই।
‌বাপ দাদার প্রায় ৭০ বছরের ব্যবসা টাঙ্গাইল শাড়ি তৈরি করা ।পূর্বপুরুষদের এই কাজ নিয়েই আমার আগানো। সবার কাছে ভালো কোয়ালিটির টাংগাইল শাড়ী পৌছে  দেওয়াই আমার উদ্যোগের লক্ষ্য। আমার দাদা মারা যাওয়ার পর ধীরে ধীরে আমার ৩ চাচার শাড়ী তৈরির কারখানা বন্ধ হয়ে যায়।আমার বাবাও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো কারখানা বন্ধ করে দিবে।কেননা অনেক তাঁতীর অবস্থা  বর্তমানে শোচনীয়। তেমন কোন লাভের মুখ দেখেন না তারা। যার কারনে অনেক কারখানা বন্ধ যাচ্ছে। অন্য  পেশা বেছে নিতে  বাধ্য  হচ্ছে তারা।।

‌কিন্তু উইতে আসার পর আমি আশার আলো দেখতে পাই। কাজ শুরু করি শাড়ী নিয়ে । এখন আমার বাবা আমার জন্য শাড়ী তৈরি করেন।এটা কতটুকু ভালো লাগার একটা বিষয় তা বলে বুঝাতে পারবোনা। এখন বাবা মেয়ের  যৌথ উদ্যোগ।এখন বাবার স্বপ্ন পূরন হয় আমার হাত ধরে উই এর হাত ধরে। সব কিছুর জন্য  আলহামদুলিল্লাহ।

আরেকটা কাজ যেটা হচ্ছে ছোটবেলা থেকেই ভালোবাসি হাতের কাজগুলো করতে। এই  ভালোবাসা থেকে কুরুশের কাজ গুলো শেখা আমার মূলত কোন ট্রেইনার নেই আমি শিখেছি ইউটিউব থেকে। এটা শিখতে পেরেছি কারণ এই কাজের প্রতি ছিল আমার অসম্ভব ভালোবাসা।

করোনার সময় সবাই যখন লকডাউন এ ডিপ্রেশনে তখন আমিও ছিলাম ডিপ্রেশনে। এ সময়টাতে বেশিরভাগ সময় কাটতো ইউটিউবে নাটক-সিনেমা ফানি ভিডিও দেখে। কিন্তু হঠাৎ ১০ জুন ২০২০ সালে আমার ছোটভাই উইমেন এন্ড কমার্স ফোরাম (উই) সম্পর্কে আমাকে বলে এবং জয়েন করতে বলে। আমি ওই দিনই উইতে জয়েন করি।

উইতে যেদিন জয়েন করি সেদিনই ১০০ জন লাখপতি পূর্ণ হয়। মনের মধ্যে একটা বাসনা তৈরি হয় আমিও পারবো আমাকেও পারতে হবে। সবাইকে দেখে অনুপ্রেরণা পেলাম ।এই অনুপ্রেরণা থেকেই আমার উদ্যোগ শুরু করা। একটিভ থাকা শুরু করলাম শুরুতে আমি আমার হাতের কাজ কুরুশের কাজ গুলো নিয়ে পোস্ট করতে থাকলাম এক সপ্তাহ পর আমি প্রথম অর্ডার পাই। ধৈর্য্য ধরে কাজ করে ধীরে ধীরে অর্ডার আসতে শুরু করলো ।যেদিন আমার একটা পোস্টে ৬০০০ লাইক আসে তারপর আমাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো রেসপন্স পাই সবার।

দুই মাস পর আমি মাত্র ৮ টা শাড়ি  নিয়ে কাজ শুরু করি। আমার টাঙ্গাইল শাড়ি নিয়ে লেখালেখি শুরু করি। আল্লাহর রহমতে অনেক ভাল রেসপন্স আমি পাই। যেদিন একটা পোস্টে আমার ২০ হাজার লাইক আসে আমি ঘুরে দাঁড়ানোর একটা টার্নিং পয়েন্ট পেয়ে যাই।
আমার পেইজ লিংক
facebook.com/Kushimona123
পেইজ এ  ১৬৪ লাইক নিয়ে উইতে জয়েন করেছিলাম এখন আমার পেইজ এ  লাইক  প্রায় ২৯০০ কোন বুস্ট ছাড়া।
আলহামদুলিল্লাহ ৮৩ দিনে আমি লাখপতির  খাতায় নাম লেখাতে সক্ষম হয়েছি। এখন আমার সেল আপডেট ৮ লাখ ১  হাজার ১৫০ টাকা। টাঙ্গাইল থেকে আমার সেল আপডেট সবচেয়ে বেশি।মোট সেল হয়েছে ৯২৬ পিস শাড়ি।
বর্তমানে আমার বাবা আমার জন্য শাড়ি তৈরি করছেন। উইতে আমার পঞ্চরং শাড়িটা সেল হয়েছে ১৫০ পিস।

উইতে জয়েন করার পর অনলাইন বিজনেস সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য জানতে পেরেছি। জানতে পেরেছি কিভাবে স্টোরিটেলিং এর মাধ্যমে পণ্যের পরিচিতি করতে হয় ।পেইজ সম্পর্কে জানতে পেরেছি ডোমেইন-হোস্টিং এগুলো নিয়ে বিস্তারিত জানতে পেরেছি ।এককথায় বলা যায় অনলাইন বিজনেস”  অ” জানা ছিল না কিন্তু উই এর কারণে এগুলো আমার অভিজ্ঞতার ঝুলিতে জমা হয়ে রয়েছে।

কুশিমনা ভবিষ্যতে একটা ব্রান্ড হবে। কুশিমনার থাকবে নিজস্ব ডিজাইনে টাঙ্গাইল শাড়ি।ভালো মানের টাংগাইল শাড়ী  এবং কুরুশের পণ্যগুলো। শুধু দেশে নয় বিদেশেও পৌঁছে দিতে চাই আমার উদ্যোগের পন্যগুলোকে‌।

উই হচ্ছে উদ্যোক্তা তৈরির কারখানা। লাখ লাখ নারী উইয়ের কারণে তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে ।দেশ তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাচ্ছে উই এর হাত ধরে ।উই এর কাছে চির কৃতজ্ঞ।
ধন্যবাদ রাজিব স্যার ও নিশা আপুকে আমাদের জন্য উই  এর মত একটা অনলাইন প্লাটফর্ম তৈরি করার জন্য যেখানে কোন প্রকার টাকা পয়সা ছাড়াই আমরা আমাদের পণ্য গুলো নিয়ে কাজ করতে পারি।

অসংখ্য ধন্যবাদ S.z.Prince ভাইয়া কে এবং Entrepreneurs Magazine  TMS কে।আমার এবং আমার উদ্যোগ নিয়ে লেখার জন্য। নতুন বছরের শুরুতে ভাইয়া এই সুযোগ টা দেওয়ার জন্য আবার ও অসংখ্য ধন্যবাদ।

আফরিন সুলতানা শিল্পী
টাংগাইল
স্বত্বাধিকারী
-কুশিমনা- Kushimona

facebook.com/Kushimona123

S.Z.PRINCE

facebookhttps://web.facebook.com/S.Z.PRINCE

WhatsApp no. 01684722205

Magazine page: https://web.facebook.com/TSMEntrepreneursMagazine

আপনিও আপনার গল্প শেয়ার করতে চাইলে আমাকে ম্যাসেজ করতে পারেন।