Contact us to get featured in Entrepreneurs Magazine TSM | Call: 01684722205

মনের মদ্ধ্যে কিছু করার ইচ্ছা থাকলেও কিছু করতে পারি বা পারবো সে সাহস ছিলো না|Dilara Amir Shathi

আমার নাম দিলারা আমীর সাথী।

সাথী নামেই সবাই আমাকে ডাকে,,ছোট বেলা থেকে শ্বপ্ন দেখতাম বড় হয়ে ডাক্তার হব কিন্তু সেটা আর সব সাধারন মানুষের মত চাওয়াই থেকে গেছে পাওয়া বা হওয়া হয় নি।

আমার জীবনটা আর দশজন সাধারণ নারীর মত নয় অনেক চড়াই উতরাই পার হতে হয়েছে আমাকে। সে সব লিখতে চাচ্ছি না। আমার বিয়ে হয় ২০০৯-জানুয়ারীতে আর ২০১২তে আমার সন্তান হওয়ার পর আমি একেবারে ঘরের বৌ আর বাচ্চার মা তে পরিনত হলাম। দিন কাল ভালোই চলছিলো,,,হাজবেন্ড চাকরির পাশাপাশি বিজনেস করতো। সে সৎ ভাবে চাকরি করতো তাই চাকরির পাশাপাশি বিজনেস করতেই হয় তাকে।

সে চাইতো না আমি চাকরি করি বা বাহিরে কোন কাজ করি,,,, হাজবেন্ড এর বদলির চাকরি,,, চাকরি সুত্রে এখন বদলি ঢাকাতে,,,,দুই বছর হলো আমরা ঢাকা আছি কিন্তু এই দুই বছরে আমার সাজানো সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেছে,,ঢাকাতে বদলি হয়ে আসার পর তার ব্যবসায়িক লেনদেন যাদের সাথে ছিলো তারা লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে সে টাকা আর উদ্ধার করতে পারে না ফলে লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতি গ্রস্থ হয় এবং যাদের নিকট পণ্য নিত তাহারা চাপ প্রয়োগ করতে থাকে এদিকে ঋনের বোঝা  বাড়তে থাকে আর  অন্যদিকে পৃথিবীতে নতুন আর্বিভাব হলো করোনা মহামারী। তার মদ্ধ্যে তার চাকরি গর্ভমেন্ট হলেও প্রেষনে  প্রজেক্টে,,,,,একদিকে বিজনেসে লস অন্যদিকে সারা পৃথিবীতে আসলো- (করোনা)মহামারী —-এই মহামারী আমার জীবনে যে এত মহা কষ্ট নিয়ে আসবে বুজতে পারিনি,,, করোনা-র জন্য তার প্রজেক্টে বেতন ফান্ড না থাকাই বেতন বন্ধ এদিকে ব্যবসার হাল অবস্থা এতটাই খারাপ যে আমার পরিবারে অন্ধকার নেমে আসে  আমার যা-কিছু ছিলো ধার দেনা দিতে দিতে প্রায় শেষ,,,,গাড়ির ড্রাইভার কে বাদ দিয়েছি অনেক আগেই তার কিছু দিন পর গাড়িও সেল করেছি আমরা ,, গহনা গাটি সব সেল হয়ে গেছে হাতে অবশিস্ট কিছু নাই,,,,,আমাদের চলা ফেরা অন্য রকম তাই আমাদের এমন বির্পযয়ের কথা কেও মানতে চাইবে না,,  আমরা কারো কাছে কিছু বলিও নাই যে আমরা কিভাবে আছি কেমন আছি,,,,করোনা হলো র্মাচের দিকে আর র্মাচের শেষের দিক থেকে হাবি ঘরে বসা চারিদিকে অন্ধকার দেখছিলাম বাচ্চারা বুজতে পারতো না কেমন অবস্থা,,, ওদের যেটা প্রয়োজন সেটাও দিতে পারি না,,, কি যে কঠিন সময় পার করছিলাম সেটা আসলে লিখে প্রকাশ করা সম্ভব নয়,,একে একে চার মাসের ঘর ভাড়া বাকি হয়ে গেলো,, সেটাতো হলো চার মাস কিন্তু করোনা শুরুর একমাস পর এমন  পরিস্থিতির মদ্ধ্যে দিয়ে আমরা পার করলাম সেটা শুধুই ইতিহাস আমার জীবনে, ,,,,,,,ছোট ছেলে তার বয়স দুই বছর  তার দুধ কিনবে সেই টাকাও ছিলো না কাছে😭আল্লহর কাছে সব সময় বলতাম আল্লাহ তুমি দেওয়ার মালিক তুমি দিয়েছিলে সব কিছু আবার তুমিই নিয়ে নিলে,,,, আল্লাহ এমন একটা রাস্তা আমায় দেখাও যেখানে আমি কাজ করতে পারি,,,  আমার কিছু টাকা সেভিংস ছিলো কিন্তু সেটা ছিলো আমার নিজের জেলাতে সেখান কার একাউন্টে চাইলেও যেতে পারছিলাম না এলাকাতে লকডাউনে সব বন্ধ। আমি সারা দিন গুগোল ঘাটাঘাটি করতাম ই-কমার্স নিয়ে পড়াশুরু করলাম,,, হাজবেন্ড কে বুঝালাম আমি এই কাজটা করতে চাই এটা ঘরে বসেই করা সম্ভব উনি প্রথমে রাজি হয়নি কিন্তু তাকে খুব বোঝানের পর সে রাজি হয়,,, ব্যাস ঠিক করলাম অনলাইন বিজনেস করব কি নিয়ে কাজ করবো সেটাও আমি ভেবেছি তাকে বললাম আমি মেয়েদের পোশাক আইটেম নিয়ে কাজ করতে চাই আসলে এটাই আমার চয়েজের কাজ,,,পেজ ওপেন করলাম  এবং জুলাই মাসের প্রথম দিকে সব কিছু উপেক্ষা করে আমি আমার বাচ্চাদের নিয়ে বাড়িতে গেলাম পরিবহনে করে আমার ছেলের ওটাই ছিলো প্রথম পরিবহন যার্নি খুব ভয়ে ছিলাম কিছু হয় কি না। বাড়িতে যাওয়ার পর এলাকার মানুষের কালো চাহনি আমি আমার বাচ্চাদের নিয়ে ঢাকা থেকে গিয়েছি এলাকাতে করোনা প্রবেশ করলো এই সব নিয়ে অনেক চাপের মুখে থাকতে হলো আমাকে।

যাই হোক আমার যে কাজ সেটা তো করতে আমাকে হবেই। তাই যাওয়া বাড়িতে। আসলে দুনিয়াটা খুব সার্থপর এখানে কেও কারো নয় সেটা করোনা এসে আরো ভালো ভাবে বুঝিয়ে দিলো।টাকা উঠালাম তার পর আমার আম্মু কে নিয়ে গেলাম সাথে,, কিছু থ্রীপিচ কিনলাম সেই থেকে শুরু হলো  আলহামদুলিল্লাহ আমার বিজনেস এখন আমাকে মাশাআল্লাহ চিনে অনেকেই,,, জানে আমি একজন উদ্দোক্তা  এত এত কষ্টের পর যে আমি নিজে কিছু করতে পারছি আমি যে একজন উদ্দোক্তা হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এটাই আমার  বলার মত একটা গল্প হয়ে গেছে।

আমি এটা জানি জীবনে উৎথান পতন থাকবেই সেটা কে অতিক্রম করতে হবে আমাদের কেই,,

মহান আল্লাহ তালা বিপদ দেন আবার তিনিই রাস্তা দেখিয়ে দেন।

শুকরিয়া আল্লাহ তালার কাছে যে আমি কিছু করতে শিখেছি তবে এটা বার বার জেনেছি সৎ থাকলে তাকে মানুষ ঠকালেও কোন না কোন ভাবে মহান আল্লাহ তালা সহযোগিতা করেন।

আজ আমি আমার স্বামীর পাশাপাশি নিজেও চেষ্টা করছি কিছু করতে যাতে যেকোনো দূরদিনে আমি আমার পরিবারকে সাপোর্ট দিতে পারি।

Q&A

দিলারা আমীর সাথী

নিজ জেলা কুষ্টিয়া

বর্তমানে ঢাকাতে বসবাস

মিরপুর-৭ ঢাকা ১২১৬

🏵️বিজনেস শুরু করি ২০২০-এর জুলাই এর মাঝামাঝি সময়ে।

🏵️মনের মদ্ধ্যে সব সময় ইচ্ছে ছিলো কিছু একটা করতে হবে করতে চাই কিন্তু করা হয়ে ওঠেনি

করোনা পরিস্থিতি আর ব্যাক্তিগত কিছু সমস্যার কারনে খুব কঠিন ভাবে সিদ্ধান্ত নেয় বিজনেস করব।

🏵️শুরুতে আমাকে অনেক কঠিন সময় পার করতে হয়েছে বিজনেস এর জন্য টাকার দরকার সেটা কাছে ছিলো না আমি ঢাকাতে থাকি তখন লকডাউন চলছিলো সারাদেশে ঐ সময় ঝুকি নিয়ে আমি বাচ্চা দুইটা সাথে নিয়ে কুষ্টিয়া চলে যায় টাকার ব্যাবস্থা করার জন্যও।

 

🏵️প্রথমে আমি দশ হাজার টাকার কিছু থ্রি পিচ উঠায় এবং সেল বলতে শুধু একটা থ্রি পিচ সেল করতে পারি তাও সেটা আমার নিজের বোনের কাছে। বাহিরে কেও জানত না আমি বিজনেস করি।

পেজ ওপেন করি আগষ্ট এর ৭ তারিখে আমার  পেজের নাম রঙ বাংলা -পেজ ওপেন করার পর গ্রুপে লেখালেখি করতে থাকি এবং এক মাস পর আলহামদুলিল্লাহ আমার নিজের পেজে থেকে সেল হওয়া শুরু হয়। এখন প্রতিদিনই আমার পণ্যের ডেলিভারি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলাতে।

 

🏵️বিজনেস করতে গিয়ে যেটা শিখলাম প্রথমত ধৈর্য্য থাকা লাগবে আর হতাশ হওয়া যাবেনা   কাজের প্রতি লেগে থাকা কাজের প্রতি ভালেবাসা থাকলে সাফল্য আসবেই।

 

🏵️এখন আল্লাহর রহমতে আমার যথেষ্ট পরিমানে সেল হয়।

 

🏵️আমার ফিউচার প্ল্যান আমি ওনলাইন এর বিক্রির  পাশাপাশি   একটা শো-রুম দিব যেখানে আমার সকল কাস্টমার সরাসরি আমার থেকে পণ্য নিতে পারবে রঙ বাংলাকে সবাই যেন এক নামে চিনতে পারে।

আমাকে এত বড় একটা প্লাটফর্ম এ সুযোগ দেওয়ার জন্য  TSM Entrepreneurs  ম্যাগাজিন কে ধন্যবাদ বাদ আমি তার উত্তর-রত্তর সাফল্য কামান করছি।

S.Z.PRINCE

facebookhttps://web.facebook.com/S.Z.PRINCE

WhatsApp no. 01684722205

Magazine page: https://web.facebook.com/TSMEntrepreneursMagazine

ok.com/TSMEntrepreneursMagazine