Contact us to get featured in Entrepreneurs Magazine TSM | Call: 01684722205

পারসোনাল ব্রান্ডিং এর মাধ্যমে স্বপ্ন নিয়ে পথ চলা|Farhan E Safrin

আমি ফারহান ই সাফরিন।

বেড়ে ওঠা বগুড়া শহরের প্রাণ কেন্দ্র জলেশ্বরী তলা এলাকায়। শিক্ষক বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে। সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও আযিযুল হক কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এস এস সি ও এইচ এস সি শেষ করার পর ক্যারিয়ার নির্বাচনের বিষয় আসলে বাবা মার স্বপ্ন ছিল ছেলের মতো মেয়েও ডাক্তার হবে কিন্তু মেয়ের স্বপ্ন তো অন্যকিছুতে…

স্বপ্ন ফ্যাশন ডিজাইনার হবার সাথে কিছু অসহায় মানুষ যাদের কর্মসংস্থান করবে আমার উদ্যোগ।

একবুক স্বপ্ন নিয়ে ঢাকা ইউনিভার্সিটির অধিনস্থ হোম ইকোনমিক্স কলেজ থেকে বস্ত্র পরিচ্ছদ ও বয়ন শিল্প থেকে স্মাতক ও স্নাতকোত্তরে মেধা তালিকায় স্থান নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়া।মাঝে বিজিএমই থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিং এর কোর্স সম্পন্ন করা।

২০০৪ এ দুই জন বান্ধবী কে নিয়ে আমার সিগনেচার পণ্য হ্যান্ডপেইন্ট কুর্তি ও তাদের কিছু পণ্য নিয়ে উদ্যোগ নেই যা বেশ প্রশংসার দাবিদার ছিল।কিন্তু কিছু কারনে আর আগাতে পারি নি….

সব কিছুই ঠিকঠাক মতো চলছিল..

বাঁধ সাধলো বাবার অসুস্থতা। হুট করে বিয়ে জীবনের সব কিছু ওলট-পালট। সঠিক ট্রাক থেকে পুরোপুরি ছিটকে পরা আমি 😥

যে কিনা বগুড়া শহরে এক সময় নামকরা নৃত্য শিল্পী, আবৃত্তি, অভিনয়… সব অঙ্গন দাপিয়ে বেড়াতো ১৯৯৫ সালে জাতীয় শিশু পুরষ্কার, নতুন কুঁড়ি, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ, বিভাগীয় ও জেলা পর্য়ায়ের পুরষ্কার যার ঝুড়িতে…

স্কুলে থাকতে নিজের প্রতিরক্ষার জন্য কারাতে প্রশিক্ষণ নিয়েছি যদিও ব্লাক বেল্ট পর্যন্ত শেষ করা হয় নি। কিন্তু মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়াম অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ৪২ কেজি ওজন বিভাগে রৌপ্য পদক পেয়েছি।

বিয়ের পর সব এলোমেলো হারিয়ে গেল স্বপ্ন গুলো কোন সে অজানায়!সংসার বাচ্চা  সবকিছু মিলিয়ে হারিয়ে যাওয়া আমি।কিছু একটা করার তাগিদ নিজের আলাদা পরিচয় সবসময়  মাথায় কাজ করতো।কারন এসএসসির পর থেকেই বলতে গেলে নিজে কিছুটা সাবলম্বী ছিলাম।বাংলাদেশ  শিশু একাডেমি বগুড়া শাখার নৃত্য প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলাম ২ বছর।সে যাগ গে…এখন চাকরির বাজার নিয়ে তো বলার কিছু নেই😥

তারপরও কিছু করার তাগিদ থেকে ছোটদের ড্রইং একাডেমি দেয়া তারপর নতুন অধ্যায় শিক্ষকতা দিয়ে।বিএএফ শাহীন কলেজ তেজগাঁও শাখাতে ছিলাম বেশ কয় বছর।তারপর স্থানীয় একটি স্কুলে যোগদান পাশাপাশি ড্রইং ক্লাস…

মাঝে অনেক না বলা স্বপ্ন ভাঙার ঘটনা…

বাবা মারা যাবার পর যেন পুরো পৃথিবী ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল….কারন বাবা আমার মতামতটাকে গুরুত্ব দিতেন বুঝতেন…

যদিও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যা প্রাপ্তি পুরোটাই মার জন্য।

নতুন করে কিছু করতে চাওয়া মানেই সবার নেগেটিভ  কথা আর এক পা পিছিয়ে আসা..শাহিন স্কুলের শিক্ষকতার শেষ সময়টাতে পুরো হতাশা আমাকে গ্রাস করে ফেলে।মূলত সেই সময়টাতে উই (Women and e-commerce forum) কে পাই বন্ধু লায়লা শারমিনের মাধ্যমে। যা কিনা পুরো দেশীয় পণ্যের সম্রাজ্য।আবার মনে হলো ট্রাকে ফিরে আসার স্বপ্ন দেখার একটু করে শুরু।উই এর উপদেষ্টা,ই  ক্যাবের সাবেক সভাপতি জনাব রাজীব আহমেদ স্যারের কথা ও লেখাতে এক ধরনের শক্তি আছে যা সত্যি একজন সাধারণ মানুষ কে অসাধারণ করে তুলতে সাহায্য করে।এফ কমার্সের মূল ধারনাটাই পাই স্যারের কাছ থেকে।গ্রুপে পুরোপুরি এক্টিভ হই লকডাউনের সময়…যখন পুরো বিশ্ব এক কঠিন সময় পার করছে তখন একমাত্র মনোবল দিয়ে গেছে উই। স্যারের কথা মতো ফেব্রুয়ারীর ১৪ তারিখে Deshi Amber-দেশী অম্বর নামে অনলাইন পেজ খুলি।

শুরু হয় আমার স্বপ্ন যাএার পথচলা।যেহেতু করোনা কালীন সময়টাতে সবাই গৃহবন্দী মূলত অনলাইনের উপরই অনেক মানুষ নির্ভরশীল হয়ে পরে।

আমি হ্যান্ডপেইন্ট, ব্লক, টাই ডাই  নিয়ে কাপড়ে ফিউশন আর কাজ করতে ভালবাসি।আর এই ভালবাসার বিষয় গুলো নিয়ে কাজ শুরু করি।হ্যান্ডপেইন্ট গুলো সাধ্যের মধ্যে শখ মেটানো ক্রেতাদের জন্য। ক্রেতারা টাই ডাই ও হ্যান্ড পেইন্টেের কাস্টমাইসড ফ্যামিলি,কাপল,সিঙ্গেল পোশাক আমার পেজ থেকে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেছে আর সব সম্ভব হয়েছে উই প্লাটফর্মের মাধ্যমে। উই এর হাতধরেই আমার প্রথম বিকিকিনি শুরু যা এখনো চলমান।উই এর মাধ্যমে সম্মানিত ক্রেতাদের পেয়েছি  যাদের মধ্যে অনেকেই এখন আমার রিপিট কাস্টমার। যখন বলে দেশী অম্বরের পোশাকে খুশি তখন একধরনের প্রাপ্তি কাজ করে যা বলে বোঝানো যাবে না।

উই এর প্রসিডেন্ট নাসিমা আক্তার নিশা আপু ই-কমার্স ভিত্তিক যতটা ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করা যায় তা করে উদ্যোক্তাদের দক্ষ করে তুলতে সহায়তায় করছেন প্রতিনিয়ত।

স্বপ্ন দেখতে হলে নিজেকে ভালবাসতে হবে। আর নিজের কাজের ধারনা বা কল্পনা গুলো নিজের মাঝে থাকাই ভালো না হলে সে ধারনা নিয়ে অন্য কেউ কাজে  লাগাতে পারে কিছু টা হলেও…এর মতো ভুল আর নেই। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি।অনেক কাছের মানুষও অনেক সময় ছিটকে যায় ধারনা গুলো নিয়ে…

নতুন ভাষা শেখার প্রতি আগ্রহ থেকে ঢাকা ইউনিভার্সিটির IML এ জাপানিজ শিখছি। ইচ্ছে এটাকেও উদ্যোগের কোথাও না কোথাও কাজে লাগানোর।

আর কাজ শিখিয়ে অসহায় মহিলাদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলার ইচ্ছে।নিজের ডিজাইন করা পোশাক দেশের বাহিরেও  সুনাম কুড়াবে এই আশা।গতানুগতিক পোশাকের বাহিরে ব্লক, টাই ডাই, হ্যান্ডপেইন্ট দিয়ে দেশীয় আমেজে ব্রাইডাল পোশাক তৈরি করা।টাঙ্গাইলের জামদানী নিয়েও কাজ করি।এছাড়া গ্রামীণ চেকের প্রতি আছে আলাদা দুর্বলতা।কারন বিবি রাসেল ম্যাম আমার অনুপ্রেরনা।খাদি, সিল্ক, জামদানী, মনিপুরী নিয়ে ফিউশনের ভীষণ ইচ্ছে।

স্বপ্ন দেখি একসময় Deshi Amber-দেশী অম্বর কে ব্রান্ড হিসেবে দেখার।যা কিনা সবার পছন্দের তালিকায় থাকবে।

সেই পথেই এগিয়ে চলা।

https://www.facebook.com/deshiamber/
https://www.facebook.com/deshiamber/

S.Z.PRINCE

facebookhttps://web.facebook.com/S.Z.PRINCE

Contact no. 01684722205