Contact us to get featured in Entrepreneurs Magazine TSM | Call: 01684722205

যত বাধা বিপত্তি আসুক,ইচ্ছাশক্তি যদি প্রবল থাকে স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠা সম্ভব|Farzana Afroz

আমি ফারজানা আফরোজ। ঢাকার মোহাম্মদপুর তাজমহল রোড থেকে, কাজ করছি স্বাস্থ্যসম্মত ফ্রোজেন ফুড, ফ্রজেন স্ন্যাকস এবং ডেজার্ট আইটেম নিয়ে।

এছাড়াও আমার আরও একটি বিজনেস পেজ রয়েছে, “”Meet Your Desire”” যেখানে আমি মেয়েদের শাড়ি, থ্রিপিস, জুয়েলারি এগুলো নিয়ে কাজ করে থাকি।

আমি একজন সিঙ্গেল মাদার। সাড়ে তিন বছরের ছোট একটা ছেলে বাবু নিয়ে আমার জার্নি। আমি একজন শিক্ষিত নারী। আমি আমার গ্রাজুয়েশন ( বি.এস.সি) কমপ্লিট করেছি টেক্সটাইলের উপর, প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে।করোনাকালীন সময় যখন সবকিছু থমকে গিয়েছিলো, তখন জীবন চলাটা কঠিন এবং দূরহ হয়ে উঠেছিল। উই গ্রুপে জয়েন হয়েছিলাম দু-তিন মাস আগের থেকে। সেখান থেকে অনুপ্রেরণা পেয়ে নিজে কিছু করার শক্তি যোগাই। শুরু করি খাবারের বিজনেস ৬ জুন ২০২০ সালে। সাথে শুরু হয় আমার নতুন পথ চলা।মাত্র ৫০০০ টাকা কে পুঁজি করে শুরু করেছিলাম আমার উদ্যোগটি।

প্রথম যখন বিজনেস শুরু করি তখন একটা জিনিসই মাথায় ছিল, কি করে স্বাস্থ্যসম্মত এবং পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার সকলের পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারব।

যেহেতু আমাদের বিরাট একটা অংশ কিশোর-কিশোরী। সেক্ষেত্রে তারা ভাজাপোড়া এবং বাহিরের খাবারগুলো খেতে বেশি ভালোবাসে।আমার টার্গেট ছিল, এই ফাস্টফুড আইটেম গুলো কে এমনভাবে তৈরি করা, যাতে সেটা স্বাস্থ্যসম্মত হয় এবং ওরা খেতেও মজা পায়। পাশাপাশি ওরা যাতে টিফিনে ক্যারি করতে পারে এমন কিছু ডেজার্ট আইটেম।

যেহেতু উই গ্রুপে দু-তিন মাস আগেই জয়েন করেছিলাম। সে ক্ষেত্রে পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং
জিনিসটা শিখেছিলাম। যা আমার ব্যবসার শুরুতেই খুব কাজে দিয়েছিল।

প্রথম যখন পোস্ট দেওয়া শুরু করি তখন আমার বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়-স্বজন মহল থেকেই সাড়াটা পেয়েছিলাম সবচেয়ে বেশি। সবার ভালোবাসা যেমন পেয়েছি, তেমন শুনতে হয়েছে অনেক কটু কথা।অনেকে এমন বলেছে, ‘বি.এস.সি পাশ করে সিঙ্গারা বিক্রি করছে’,আমি কখনোই তাদের কথা কানে নেই না। নিজেকে ছোট চোখে দেখি নি এবং দমেও যায়নি। সব সময় নিজের ইচ্ছাশক্তিকে প্রাধান্য দিয়েছি এবং নিজের কাজকে ভালোবেসেই এগিয়ে চলেছি।প্রথমদিকে সেলের পরিমাণ কম থাকলেও, ধীরে ধীরে মানুষের আস্থা এবং বিশ্বাসে জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি।

সংসারে যেহেতু আমি এবং আমার ছোট একটা বাবু, সে ক্ষেত্রে প্রথম প্রথম কাঁচামাল গুলো সংগ্রহ করতে,একার হাতে খাবার তৈরি করে প্যাকিং করা, ফটোগ্রাফি আবার সেগুলো পোস্ট করা এবং খাবার ডেলিভারি দিতে আমার অনেক কষ্ট হয়ে যেত। প্রায় সময় হিমশিম খেয়ে যেতাম।
কিন্তু কখনোই মনোবল হারায়নি।আমি হেরে গেলে, হেরে যাবে আমার মাতৃত্ব। বেড়ে ওঠা বন্ধ হয়ে যাবে আমার ছোট্ট শিশুর, এই কথাটা সব সময় মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেত।

আলহামদুলিল্লাহ দীর্ঘ সাত মাসের ব্যাবসায়িক জীবন থেকে আমি একটা জিনিস জানতে পেরেছি, মানুষ সব সময় কোয়ালিটির উপর নির্ভরশীল। খাবার কিংবা কাপড়, যেকোন ক্ষেত্রে কোয়ালিটি মেইনটেইন করা হয়, তাহলে দাম বেশি হলেও মানুষ আপনার কাছ থেকেই নিবে। কারণ দিনশেষে সবাই ভালোটাই নিজের জন্য বেছে নেয়।

আলহামদুলিল্লাহ আমার সেই গুটিগুটি পায়ে হেঁটে যাওয়া ছোট্ট ‘Taste N Bite এখন অনেকটাই বড় হয়েছে।আমার সাথে আরো দুজন হেল্পিং হ্যান্ড রয়েছেন সকলের চাহিদার যোগান দেয়ার জন্য।একসময় যারা কটু কথা বলে আমাকে নিচু দেখিয়েছে, আজ তারাই আমাকে করতালি দিয়ে বরণ করে নিচ্ছে।আমার গল্প বলে নিজেদের মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে। আমি মনে করি এটাই আমার অনেক বড় পাওয়া।

প্রত্যেক মাসেই এখন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার খাবার বিক্রি হয়ে থাকে।

আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, আমার ছোট্ট ‘Taste N Bite’ একদিন বাংলাদেশের বড় আস্থা নির্ভর কোম্পানিতে পরিণত হবে।নিজের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আমি বিভিন্ন কালিনারি ইনস্টিটিউট থেকে কোর্স কমপ্লিট করছি, যাতে আরও গুণগত এবং মানসম্পন্ন নতুন নতুন খাবার সকলের সামনে নিয়ে আসতে পারি।

আমি বিশ্বাসী একটা কথাতেই,

“মানুষের স্বপ্ন অনেক বড়।তবে ইচ্ছাশক্তি তার চেয়ে দ্বিগুণ বড়। যত বাধা বিপত্তি আসুক না কেন ইচ্ছাশক্তি যদি প্রবল থাকে, তাহলে স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠা সম্ভব”।

অসংখ্য ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি S.z. Prince ভাইয়া এবং ভাইয়ার উদ্যোগের প্রতি।
উনাদের এই ম্যাগাজিনের মাধ্যমে, হাজারো উদ্যোক্তাদের গল্প এবং সংগ্রাম সকলের সামনে তারা তুলে ধরছেন। এর ফলে উদ্যোক্তারা যেমন সম্মানিত হচ্ছেন, তেমনি অনেকেই অনুপ্রাণিত হচ্ছেন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য। নিজেদের দমে কিছু করার জন্য।

Page Link- https://www.facebook.com/MouriMukta/

Page Link- https://www.facebook.com/Taste-N-Bite-111410480624820/

Products Gallery-


S.Z.PRINCE

facebookhttps://web.facebook.com/S.Z.PRINCE

WhatsApp no. 01684722205

Magazine page: https://web.facebook.com/TSMEntrepreneursMagazine

আপনিও আপনার গল্প শেয়ার করতে চাইলে আমাকে ম্যাসেজ করতে পারেন।