Contact us to get featured in Entrepreneurs Magazine TSM | Call: 01684722205

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পন্যকে ভালোবেসে ছাতু নিয়ে কাজের যাত্রা|Ripanur Islam

কলেজ পড়ুয়া ১৭ বছরের এক কিশোরী আমি। ঢাকায় জন্ম ও বড় হওয়া। তবে ছোটবেলা থেকেই গ্রামে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। ঘুরে বেড়িয়েছি মাঠে-ঘাটে। এখনো সুযোগ পেলে ছুটে যাই নাড়ির টানে। কিছুটা চুপচাপ স্বভাবের হলেও ভাবনাগুলো ছিল অনেক বেশি। আমার ধারণা, যারা চুপচাপ থাকতে পছন্দ করেন তাদের ভাবনার জগৎটা একটু বড় হয়।
আমি যখন গ্রামে যেতাম তখন বিভিন্ন মেলায় ঘুরে বেড়াতাম। সেখানকার বিভিন্ন দেশিয় পণ্য আমায় আগ্রহী করে তুলতো। কিন্তু বেশিরভাগ ক্রেতার আগ্রহই বিদেশি পণ্যের প্রতি। আমি খেয়াল করেছি, আমার বন্ধুরা কোনো বিদেশি পণ্য কিনলে সেটা নিয়ে খুব গর্ব করতো। এমনকি খাদ্যপণ্য নিয়েও। যেমন বিদেশি চকলেট কিনে। যদিও সেগুলো আদৌ বিদেশি ছিল কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। আমি এগুলো ঠিক মেনে নিতে পারতাম না। মেলায় দেখেছি আমার বয়সী অনেকেই দোকান দেয়। নিজেদের পণ্য নিয়ে আসে। বিশেষ করে মাটির জিনিসপত্র। এগুলো আমায় খুব আগ্রহী করে তুলতো। আমিও মনে মনে ভাবতাম, একদিন আমিও এসব দেশি পণ্য বিক্রি করবো।

উদ্যোক্তা কি জিনিস সেগুলো তখন বুঝতাম না। তবে ওদের সঙ্গে (খুদে বিক্রেতা) এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতাম। খাবারের দোকানে বেশি সময় দিতাম। জানতে চাইতাম এগুলো কোথায় বানানো হয়? কীভাবে বানানো হয়? কাঁচামাল কোথায় পাবো? লাভ কেমন? অনেকে হয়তো উত্তর দিত আবার অনেকে বিরক্তি প্রকাশ করতো। কিন্তু আমি কৌতুহলী ছিলাম। বিরক্তিকে অবজ্ঞা করে প্রশ্ন করে যেতাম। আমার যে একটা স্বপ্ন আছে। সেটা বাস্তবায়ন করতে হলে আমায় তো এগুলো জানতে হবে।
আমার বয়স তখন ৮-৯ বছর। নানু বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। নানু আমায় ছাতু খাওয়ালো। প্রথমবার অদ্ভুত এক জিনিস খেয়ে খুবই মজা পেলাম। এ সম্পর্কে নানুর সঙ্গে বিস্তারিত জানলাম। সেই থেকে ছাতুর প্রতি আমার একটু দুর্বলতা ছিল। এসএসসি শেষ করার পর অজান্তেই ছাতু নিয়ে ইন্টারনেটে একটু ঘাটাঘাটি করি। দেখলাম ছাতু নিয়ে হরেক রকমের পণ্য তৈরি করা সম্ভব। সিদ্ধান্ত নিলাম ছাতু নিয়েই কাজ করবো। পরিবারকে জানালাম। অনুমতিও মিলল। সেই থেকে ছাতু নিয়েই আমার উদ্যোক্তা জীবন শুরু। আর এর সবচেয়ে বড় সহযোগী ছিল আমার পরিবার, বিশেষ করে বাবা-মা।
দেশে যখন করোনা মহামারী শুরু হয় তখনই মূলত আমার ছাতু নিয়ে উদ্যোগ বাস্তবে রূপ নেয়। তবে শুধু ছাতুপণ্য দিয়ে যেহেতু টিকে থাকা যাবে না তাই এর পাশাপাশি আরও কয়েকটা পণ্য যোগ করলাম। এরমধ্যে রয়েছে আখের গুড়, ঘি, সরিষার তেল, তিলের তেল এবং মধু। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের কৃষি পন্য এনে প্রসেসিং করে প্রথমে উদ্যোক্তার জীবন শুরু করি। প্রথমে ২ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করি। আলহামদুলিল্লাহ এখন মাসে গড়ে ৫০ হাজার টাকার ওপরে বিক্রি হয়।
আমি মূলত ছাতু নিয়ে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য প্রস্তুত করে deshi grocery নামে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি করি। কেবলমাত্র ছাতু দিয়েই হরেক রকমের পণ্য প্রস্তুত করছি আমি। যেহেতু ছাতু একটি ফুড আইটেম, আর ফুড আইটেমে অনেক প্রসেসিং করে এবং প্যকেজিং করে রেডি করতে হয়। ফুড আইটেমের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। তবে আমি এখনো এ সম্পর্কিত কোনো প্রশিক্ষণ নিতে পারিনি। এজন্য সব সময় সঠিক মান রক্ষা করতে পারছি না। যতটুকু এগিয়েছি সব কিছু নিজের প্রচেষ্টায়। আমার দৃঢ় বিশ্বাস প্রশিক্ষণ পেলে আমার পন্যের গুনগত মান আরও বজায় রাখা সম্ভব হবে।

আমার অল্প বয়স ও ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা তবুও আমি মনে করি, কোনো কিছু করতে হলে দরকার অনেক পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়। কোনো ভালো কাজ করতে গেলে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হতেই হবে। আমিও হয়েছিলাম। সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয়েছে পণ্য ডেলিভারি নিয়ে। প্রথম দিকে ডেলিভারি পাঠাতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবে এগুলোকে জয় করে ও ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি আলহামদুলিল্লাহ। আমি চাই একদিন আমার উদ্যোগের পন্য সম্পর্ক এ পুরো বাংলাদেশের মানুষ জানুক এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমার উদ্যোগের পন্য ছড়িয়ে পড়ুক। সবাই দোয়া করবেন।


S.Z.PRINCE

facebookhttps://web.facebook.com/S.Z.PRINCE

WhatsApp no. 01684722205

Magazine page: https://web.facebook.com/TSMEntrepreneursMagazine

আপনিও আপনার গল্প শেয়ার করতে চাইলে আমাকে ম্যাসেজ করতে পারেন।