Contact us to get featured in Entrepreneurs Magazine TSM | Call: 01684722205

ঐতিহ্য ফিরে আসুক দেশী পণ্যের হাত ধরে|Shumya Ahmed

আমি সুমাইয়া আহমেদ এবং আমি একজন ই কমার্স উদ্যোক্তা। করোনার শুরুতে যখন চারিদিকে চাকুরী হারানো মানুষের হতাশ মুখচ্ছবি দেখা যাচ্ছিলো সেসময় দেশী পণ্যের ই কমার্সে তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে উই(Women and E-commerce) গ্রুপের রাজীব আহমেদ স্যার নিরলস চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছিলেন দেশীয় ই কমার্স অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার।

আমার পরিচিত কেউ আমাকে গ্রুপটাতে এড করে দিয়েছিলেন।প্রথম প্রথম বুঝতে একটু কষ্ট হয়েছে।কিন্তু এত ভালো আর শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে থেকে ততদিনে সাহস সঞ্চয় করেছিলাম উদ্যোক্তা হওয়ার।

অনেকেই প্রশ্ন করেন,” তাহলে প্যান্ডেমিক সিচুয়েশন ঠিক হয়ে গেলেই উদ্যোক্তা জীবনের ইতি টানবো কিনা!”
না।।সেরকম কোন ইচ্ছা নেই।
একটা উদ্যোগ শুরু করতে একজন উদ্যোক্তার দিন – রাত এক করে কাজ করতে হয়।
অনেকেই বলে থাকেন,প্যান্ডেমিকে দেশের অর্ধেক লোক বিজনেসে নেমেছে।মানে ব্যাপারটাকে ব্যাঙ্গের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে।
কিন্তু আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন এর ইতিবাচক বা নেতিবাচক দিক নিয়ে, তাহলে আমি বলবো ই কমার্স বিজনেসের খুটিনাটি শিখে সেটাকে সঠিক উপায়ে প্রতিষ্ঠা করা আমরা এই করোনার প্যান্ডেমিক সিচুয়েশনের মধ্যে শিখেছি।
আগে যেমন লাইভ আর বুস্ট ছাড়া অনলাইন বিজনেস চলতো না।এখন কিন্তু অর্গানিক রিচের ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা হয় আমাদের।বুস্ট ও খুব একটা কাজে দিচ্ছেনা।
২০২১ সালে গ্রুপকে প্রাধান্য দেওয়া হবে যে কোন অনলাইন বিজনেসে।উই প্ল্যাটফর্ম থেকে এসব ব্যাপারে আমরা জেনেছি। এখন মানুষ অনেকটাই অনলাইন নির্ভর জীবনযাপন করছে।

২০২০ জুন মাসে আমি প্রথম শুরু করি আমার উদ্যোগ, WE এর হাত ধরেই।তরুণ সব উদ্যোক্তাদের দেখে নিজের মধ্যে স্বপ্ন বুনতে থাকি।নিজেও সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখতে থাকি।

দেশের বাইরে চলে যাওয়ার একটা প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম আমরা পরিবার থেকে।সে অনুযায়ী শেফ কোর্সও করেছিলাম ।বাইরে গিয়ে রেস্টুরেন্টের বিজনেস করার ইচ্ছা ছিলো।।

কিন্তু কোর্স শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হল করোনা।মানুষের ছকে বাধা জীবনে আমূল পরিবর্তন আসলো। আমরাও এর বাইরে ছিলাম না।
ঘরে বসে তাই সাহস করে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম ই কমার্স উদ্যোক্তা হওয়ার।

৯.০০-৫.০০ টা গতবাধা চাকুরী আমার পোষায়নি কখনও।পরিবারও চাকুরির পক্ষে ছিলোনা কখনই।

ব্যবসায় সবসময় লক্ষ্য ছিলো এবং সেটা ফুড বিজনেস অবশ্যই।এই কাজটাতে আমি আনন্দ খুজে পাই।

আমার উদ্যোগের নাম Suhana’s kitchen & all। দেশীয় খাবার নিয়ে আমার এই উদ্যোগ।।এবং আরেকটা উদ্যোগ আছে আমার।সেটা চুড়ি নিয়ে।’তত্ত্ব ‘ চুড়ির পেইজের নাম।

Suhana’s kitchen & all এর খাবারকে দেশীয় খাবার কেনো বলছি! !
এখন খাবারে ফিউশন চলে এসেছে।শহর বা গ্রাম যেখানেই বলেন না কেনো,চাইনিজ এবং থাই ফুড গুলোর পাশাপাশি কোরিয়ান এবং জাপানিজ ফুড ও সমান পরিচিতো।এবং অথেন্টিক থাই বা চাইনিজ কিন্তু আমরা খাচ্ছিনা।আমরা সেটাকে আমাদের টেস্টবাড অনুযায়ী চেইঞ্জ করে ফিউশন নিয়ে আসছি।
আমার উদ্যোগ তাই একদম খাটি দেশীয় খাবার নিয়ে।অন্য আইটেমও করা হয়।কিন্তু গুরুত্ব দেওয়া হয় দেশীয় বাঙালী খাবারে হাতে বাটা মসলা এবং অর্গানিক ফার্ম ফ্রেশ সব্জী,দেশী হাস মুরগী আমি আমার বিজনেসে ব্যবহার করি।এবং জোর দিয়ে বলতে পারছি সব অর্গানিক, কারণ এগুলো আমাদের ফার্মের।৩০০ ফিটের পর কালীগঞ্জে আমাদের নিজস্ব ফার্ম আমার এই অনলাইন বিজনেসের একটা বড় সাপোর্ট অংশ।আমি ফুড বিজনেসে আরেকটা ব্যপারে ফোকাস করেছি।সেটা হল,অনেকেই ঘরে বসে মাটির পাত্রে আয়েশ করে খেতে চান।কিন্তু অনেক রেস্টুরেন্টে মাটির পাত্রে খাবার সার্ভ করে থাকলেও,বাসায় মাটির পাত্রে ডেলিভারি দেয়না।তাই আমি এই অপশন ও রেখেছি।এবং এটাই আমার বিজনেসের বিশেষত্ব। অবশ্য এক্সট্রা চার্জ এক্ষেত্রে প্রযোজ্য।পাত্র প্রতি ১০০-১৫০ টাকা রাখি। আবার বড় অর্ডারে- অর্ডারের ক্ষেত্রে ২০০ টাকার পাত্র, ১৫০ টাকাও রাখি আমি।
৮ মাস বয়স উদ্যোগের।প্রথম ৩ মাস ধরতে গেলে কোন অর্ডারই পাইনি।কিন্তু অনলাইনে একটিভ থাকার সুফল স্বরূপ একটা সময় বড় বড় অর্ডার পেতে থাকি।যেমন – ICT ডিভিশনে একবার ৫০ জন আরেকবার ৩০ জনের লাঞ্চ দেওয়া আমার শুরুর দিকের বড় অর্ডার ছিলো।এই অর্ডার দুইটা সাহস আর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় আমার।এখন একটা অফিসের ফ্রোজেন পরোটা ১২০ পিস প্রতিদিন আর তাদের লাঞ্চ ডিনার দেওয়া আমার পার্মানেন্ট অর্ডারের একটা।এছাড়া ৮৫ জনের ব্যুফের অর্ডার একটা বড় অর্ডারের মধ্যে আছে।স্বপ্ন দেখি অফলাইন বিজনেসেও Suhana’s kitchen & all অনেক পরিচিতি পাবে।তবে আমি অনলাইন উদ্যোক্তা।অনলাইন আমার প্রথম প্রায়োরিটি।
পেইজ লিঙ্ক –
https://www.facebook.com/Suhanas-kitchen-all-100857591700578/

আর চুড়ি আমার শখের বিজনেস।স্কুল কলেজে থাকতে প্রচুর চুড়ি কিনতাম।কাচের রেশমি চুড়ি গুলোর মত এত সুন্দর অর্নামেন্টস আর হয়না।স্বচ্ছ টলটলে রঙ।আর কেমন রিনিঝিনি শব্দ।যে কোন বাঙালি অকেশন বা বিয়ে,গায়ে হলুদে ডালা ভর্তি কাচের চুড়ি কেমন একটা বাঙালিয়ানা প্রকাশ করে।।আর দেখতেও চমৎকার লাগে।।প্রথম প্রথম ভয় লাগতো,কাচের চুড়ি কিভাবে সারা বাংলাদেশে পাঠাবো! কিন্তু অবাক হলেও সত্যি কথা ,আমি এখন পর্যন্ত ঢাকা ছাড়াই দেশের ৬ টা জেলাতে ১৩ বার পাঠিয়েছি কাচের চুড়ি।দেশের বাইরেও পাঠিয়েছি।এবং রিভিউ খুব ভালো ছিলো।একটা চুড়িও ভাঙেনি।যদিও কাজটা চ্যালেঞ্জিং।তারপরও বিশ্বাস করে ঢাকার বাইরে থেকে ২০০০/৩০০০ টাকার চুড়ির অর্ডার পাওয়া অনেক বড় ব্যাপার।যেখানে রেশমি চুড়িগুলো ডজন প্রতি ৫৫/৬০ টাকা রাখা যায়,এর বেশিনা। সীমিত লাভ হলেও পরিচিতি পাক আমার তত্ত্ব, এই স্বপ্ন দেখি।জ্বী আমার পেইজের নাম তত্ত্ব। গায়ে হলুদ বা বিয়েতে ডালায় করে তত্ত্ব দেওয়া হয়।।যা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে বাঙালি সংস্কৃতিতে।সেখান থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েই মূলত নামটা রাখা।পেইজ লিঙ্ক –
www.facebook.com/shumya.kawser/

দীর্ঘ ৮ মাসে ফুড বিজনেসে যতটা লাভ হয়েছে,চুড়িতে ততটা হয়নি।প্রায় ২ লক্ষ টাকার উপরে আমার উদ্যোগ থেকে এসেছে।যা আমার স্বপ্নেরও অতীত ছিলো।

Entrepreneur ম্যাগাজিন তরুণ অনলাইন উদ্যোক্তাদের নিয়ে আগেও অনেক ফিচার করেছে।অনেক উদ্যোক্তাকে প্রমোট করেছে নিজেদের স্বার্থ ছাড়াই।।


S.Z.PRINCE

facebookhttps://web.facebook.com/S.Z.PRINCE

WhatsApp no. 01684722205

Magazine page: https://web.facebook.com/TSMEntrepreneursMagazine

আপনিও আপনার গল্প শেয়ার করতে চাইলে আমাকে ম্যাসেজ করতে পারেন।