Contact us to get featured in Entrepreneurs Magazine TSM | Call: 01684722205

The life Story of Sanjida Rahman Mother of A Princess|Owner of JAWHARA|

২০১৭ তে আমাদের বিয়ে হয়।আমি তখনো এস এস সি দেইনি।ছোট বেলা থেকে কষ্ট কি জিনিস জানতাম না।আজ পাথর বুকে কষ্টকে লালন করছি।

বেবির বাবা দেশের বাইরে থাকে এবং আমাকে নিয়ে যায়।প্রায় আড়াই বছর পর কন্সিভ হয়, যদিও আমরা আগে থেকেই এক্সপেক্টেড ছিলাম একটা বেবির জন্য। অনেক দোয়া আর ট্রিটমেন্টের পর আল্লাহ কবুল ও করেছিলো।তারপর হঠাৎ উনার এবনরমালিটি শুরু হয় এবং বাড়তে থাকে।পাঁচটা মোবাইল, দুইটা ওভেন, ওয়াশিং মিশিন, এমনকি নিজের কার টা পর্যন্ত নষ্ট করে ফেলে।ক্যাশ চার লাখ টাকা গায়েব করে ফেলে। বাসার রান্না কাঁচা সব খাবার ফেলে দেয়।আমাকেও মারার জন্য চেষ্টা করে। বাবা মা আমার খোঁজ না পেয়ে পেরেশান হয়ে যায়। উনার ফ্যামিলিকে থ্রেট দিতে থাকে। একপর্যায়ে ওখানকার পরিচিত ভাই ভাবীদের সহযোগিতায় আমি দেশে চলে আসি তখন বেবি পাঁচ মাসের পেটে। দেশে আসার পর তার খুব একটা খোঁজ খবর পেতাম না। আশেপাশের লোকজন থেকে খবর নিতাম।এমনকি একাধারে তিনমাস এভাবে চলতে থাকে। আমার খাওয়া ঘুম সব কিছু যেন হারাম হয়ে যায়। স্বামীর অসুস্থতা আর নিজের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আল্লাহর দরবারে রাতদিন কান্না কাটি দোয়া সদকা দিতে দিতে ওই দিনগুলো পার করি।একেকটা দিন আমার কাছে বছরখানেক মনে হতো। এদিকে ডাঃ বলল বাচ্চাকে বাঁচানো কঠিন।বাচ্চার ওয়েট একেবারে কম। এই মূহুর্তে অনেক বেশি খেতে হবে। কিন্তু আমি যেন খাওয়া গিলতে পারতাম না।

কিছু দিন পর হঠাৎ উনার জ্ঞান ফিরলো। সাথে সাথে আমি ডাঃ এর কাছে যেতে তাগিদ দেই। কিন্তু তখনো তিনি পুরো সুস্থ না।তাই তার একজন ফ্রেন্ডকে ফোন দিয়ে পাঠাই। ডাঃ উনাকে ঘুমের ঔষধ দেয় এবং রিপোর্ট আসে দশ বছর যাবৎ উনি মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।গত দুই বছর ওষুধ না খাওয়ায় সমস্যা বেড়ে যায়।

ডাঃ এর দেয়া ওষুধগুলো খাওয়া শুরু করলে কিছুটা সুস্থ হয়ে যায়।আমি আর আমার বাবা মাকে কিছু ই বলিনি।কারণ ভয় ছিল যদি আমাকে আর তার কাছে যেতে না দেয়।

তারপর থেকে আমি খাওয়া দাওয়া শুরু করি। উনিও আমাকে খুব কেয়ার করা শুরু করে।আমাকে দেয়া কষ্ট গুলোর কথা উনার সব মনে আছে ( সিজোফ্রেনিয়া- অসুস্থতাটাই এমন।সব মনে থাকে। কিন্তু ব্রেন ঠিকমতো কাজ করেনা।সবাইকে শত্রু ভাবে।)। বলতো, তুমি খুব কষ্ট পেয়েছো।আমি দেশে এসেও ভালো ডাঃ দেখাবো।এরপর থেকে আমরা প্রতিদিন বেবির জন্য অপেক্ষা করতে থাকি। আমাদের প্রায় সব কথাই হতো বেবি নিয়ে।

দুই দিন নরমাল ডেলিভারির আশায় কষ্ট করে পরে ২০-০১-২০২০তারিখে সিজারে একটা মেয়ে বেবি হয়।উনি তো খুব খুশি।কারণ ছোট বেলায় উনি মা হারিয়েছিল।

যাইহোক,দশ দিন পর ইমার্জেন্সি ছুটি নিয়ে বেবি দেখতে আসে।আমি আমাদের বাড়িতে।তাই উনি এখানেই আসে।দুই দিন পর ওদের বাড়িতে গিয়ে ওখানে বাপ ভাইয়ের কথা শুনে, আসার পর পল্টি নিয়ে ফেলে।বলে,আমি তার নামে অপবাদ দিয়েছি।অথচ তার সবকিছুই মনে থাকতো যা যা করতো।আমার বাবা কেন তার বাবাকে বলল তার সমস্যা।অথচ এই সমস্যার কথা গোপন রেখেই তারা ছেলেকে বিয়ে করিয়েছেন।

যাইহোক, সবশেষ কথা হলো বেবির তখন মাত্র বিশ দিন বয়স। আমাদের সম্পর্ক আলাদা হয়ে যায়।(এখন বেবির আড়াই মাস) বেবির দিকেও তাকালো না উনি।তাকাবে কি, উনার তো সেই সেন্স নেই।উনি চলে গেছে। আর খবর নেই।তারপর আমার বাবা আমাকে নিয়ে উকিলের কাছে যায় আর ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দেয়।আমার কিছু করার ছিল না।

তখন তো উনার সব সমস্যা আমি মেনে নিয়েছিলাম।বাবা মাকেও জানাইনি।আজ যখন বাবা মাকে এক এক করে সব বলছি,বাবা মা নির্বাক হয়ে গিয়েছে। সারাক্ষণ তাদের একি প্রশ্ন,এতো কষ্টের পরও বললি  না আমাদের কে।আমরা কি তোকে এতো কষ্ট করতে দিতাম! আবারও কিভাবে তুই একা একা এভাবে দূরদেশে থাকার আশা করছস?

আসলে আমি চেয়েছিলাম, আল্লাহর কাছে দোয়া করতে করতে একদিন অবশ্যই আল্লাহ ঠিক করে দিবে। আল্লাহর কাছে কোনো কিছুর অভাব নেই।যদিও ডাঃ বলেছিলো, মৃত্যু পর্যন্ত এটা থাকবে এবং ওষুধ কন্টিনিউ রাখতে হবে।

এখন মনে করি, আমি আজীবন কষ্ট করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার আল্লাহ চাননি আমাকে কষ্ট দিতে।তাই তাকে সরিয়ে দিয়েছে।নইলে তো আমি তাকে ছাড়তে পারতাম না।

যদিও নিজেকে অনেক ভাবে বুঝাই। তবুও তিন বছর যার সাথে কাটিয়েছি,সুখ দুঃখ আবেগ ভালোবাসা সবকিছু শেয়ার করেছি,তাকে ভুলে যাওয়া এতো সহজ না। সারাক্ষণ কান্না করতে আর একা থাকতেই যেন ভালো লাগে।

https://web.facebook.com/profile.php?id=100043629996070

https://mobile.facebook.com/profile.php?id=100043119096399

 

আমি কখনোই কারো থেকে সেলাই শিখিনি- একথাটা অনেকেই বিশ্বাস করতে পারে না 😔

আমি কারো কাছে কামিজ কাটাটাও দেখিনি।সবই আল্লাহর দান। আলহামদুলিল্লাহ।

২০১২তে যখন আমি ক্লাস সিক্সে পড়ি। বাবার কাছে বায়না ধরি, আমার এবার ঈদের জামা লাগবে না। একটা সেলাই মেশিন কিনে দাও। বাবা বলে, আগে সেলাই শিখো তারপর।কারণ মাও সেলাই পারতো না। কিন্তু মেয়ের আবদার বলে কথা! পরদিনই মেশিন এনে হাজির। সাথে ঈদের জামাও😲

তারপর থেকে শুরু হলো কাটাকাটি।জামার উপর জামা বসিয়ে প্রথম কাটিং শুরু 🙈।

এরপর গায়ে দিয়ে দেখে লুজ ফিটিং ঠিক করতাম। তারপর আমার কাছে যেই মাপটা সঠিক মনে হতো,সেটা নোট করে রাখতাম।

ঈদে পাঁচ হাজার বাজেট থাকলে,সেটা দিয়ে অনেক গুলো কাটা কাপড় কিনে আনতাম।দেখা যেতো অর্ধেক গুলোই পরার মতো হতো না। বাকিগুলো ও আশানুরূপ না। তারপরও খারাপ লাগতো না।প্রতিবারই মনে হতো আমি বোধহয় আগের চেয়ে ভালো করছি। আরেকটু চেষ্টা করলেই হয়ে যাবে। এভাবে করে মায়ের অনেক গুলো শাড়িও নষ্ট করেছি লুকিয়ে লুকিয়ে।পরে অবশ্য মায়ের বকাও খেতে হয়েছিল।

এরই মধ্যে আমার একটা বোন হয়। আমার জন্য তখন কাজ করা আরো সহজ হয়ে যায়, বোনের জন্য ছোট টুকরো দিয়ে সুন্দর সুন্দর জামা বানাতে শুরু করি। তখন নষ্ট করলেও বকা খেতে হতো না।

হয়তো বলতে পারেন,এতো নষ্ট না করে,কারো থেকে শিখে নিলেই পারতাম।

হ্যাঁ। কিন্তু আশেপাশে কিংবা আত্মীয় স্বজনদের মাঝে সেলাই শেখানোর মতো কেউ ছিল না। আমার ও একা একা বাইরে যাওয়া নিষেধ।

যাইহোক, আমি তো মনে করি কারো থেকে শিখলে হয়তো সৃজনশীলতা হারিয়ে ফেলতাম।আর যেকাজের মধ্যে কষ্ট বেশি থাকে তাতে আনন্দও বেশি থাকে।

এখন অনেকেই আসে আমার কাছে কাটিং শিখতে। কিন্তু আমি তো সহজ ভাবে এক দু কথায় বুঝাতে পারিনা।কারণ আমি কোনো ডিজাইন ই আগে থেকে চিন্তা করে কাটি না। কাপড় হাতে পেলে গচগচ করে কেটে ফেলি। একটা ডিজাইন হয়ে যায়।তাই এসব কাটিং কাউকে কিভাবে শিখাই🙄।

এটাই আমার শখ।

আর শখকে প্রফেশন হিসেবে নিলে মন্দ কি!

আমি জওহারার মাম্মাম

কাজ করছি বেবি ড্রেস নিয়ে

ওনার অফ

JAWHARA

https://www.facebook.com/jawharababycollection/

https://mobile.facebook.com/profile.php?id=100043119096399

আপনিও আপনার গল্প শেয়ার করতে চাইলে আমাকে মেসেজ করতে পারেন।facebookhttps://web.facebook.com/S.Z.PRINCE